Breaking News

কলকাতা হাইকোর্টে স্বস্তি পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! তিনটি এফআইআরে আপাতত কড়া পদক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা, ভবিষ্যতের এফআইআর নিয়ে মিলল না রক্ষাকবচ

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- তিনটি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ কলকাতা হাই কোর্ট। আপাতত শিলিগুড়ি সাইবার থানা, কালীতলা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত।বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে নথিভুক্ত তিনটি এফআইআর নিয়ে আপাতত অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনও নতুন এফআইআর দায়ের হলে, আদালতের অনুমতি ছাড়া তা করা যাবে না—এই আবেদন মঞ্জুর করেনি আদালত।শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ দাবি করেন, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রেও একাধিক মামলায় একই ধরনের রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাই কোর্ট। সেই নজির টেনে অভিষেকের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ চাওয়া হয়। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া সব এফআইআরের কপি এখনও তাঁদের হাতে আসেনি। ফলে সব মামলার তথ্য আদালতে পেশ করা সম্ভব হয়নি। আপাতত যে মামলাগুলির তথ্য রয়েছে, সেগুলিতে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।আইনজীবীর আরও দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অধিকাংশ অভিযোগই পাঁচ-ছয় বছর আগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই পুরনো ঘটনাগুলিকে সামনে এনে একের পর এক এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এর নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ডিজে নিয়ে অভিষেকের মন্তব্য ছিল এপ্রিলে, কিন্তু এফআইআর হয়েছে জুনে। আবার ২০২০ সালের ত্রাণ বণ্টন সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও এখন মামলা করা হয়েছে।অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস. বি. রাজু আদালতে জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা দায়ের হয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী প্রতিটি এফআইআরকে আলাদা মামলার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করতে হয়। এক আবেদনে একাধিক এফআইআর খারিজের আবেদন আইনসম্মত নয় বলেই আদালতে যুক্তি দেন তিনি।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, ভবিষ্যতে কোনও এফআইআর হবে কি না, তা নিয়ে আদালত কোনও আগাম নির্দেশ দেবে না। বর্তমানে আদালতের সামনে যে তিনটি এফআইআরের নথি রয়েছে, সেগুলির ক্ষেত্রেই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হচ্ছে। ফলে শিলিগুড়ি সাইবার থানা, কালীতলা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের হওয়া মামলায় আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানিতে বাকি বিষয়গুলি বিবেচনা করবে আদালত।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *