নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা :- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে মুর্শিদাবাদের মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন এনসিপিআইয়ের দুই সাংসদ আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমান। শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসআইআর-এর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার বিষয়েও অভিযোগ জানান দুই সাংসদ।আবু তাহের খানের দাবি, এসআইআর-এর কারণে মুর্শিদাবাদের বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। তাঁর কথায়, “এসআইআর-এ ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের মধ্যে মাত্র সাত লক্ষ মানুষ আবেদন করেছেন। বাকি ২০ লক্ষ মানুষ কোনও আবেদন করেননি। গ্রামগঞ্জের অনেক মানুষ প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত নন, কাগজপত্র বুঝতে পারেন না। তাই বৈধ ভোটারদের অযথা হয়রানি না করে আবেদনের সময়সীমা বাড়াতে হবে।”মুর্শিদাবাদের প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের হয়ে প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন আবু তাহের। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি, বাদ পড়া ২৭ লক্ষ মানুষকেই সামাজিক সুরক্ষা ও সরকারি সুবিধার আওতায় রাখার দাবি জানিয়েছেন দুই সাংসদ।
বৈঠকে ধর্মীয় স্থানে মাইক বা লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিষয়টিও ওঠে। আবু তাহেরের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “মসজিদ থেকে মাইক কেন খোলা হচ্ছে, সেই বিষয়টা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি।” মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের ‘সম্প্রীতি’ বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।আবু তাহের আরও দাবি করেন, রাজ্যে প্রায় ৩৮ হাজার মাইক এবং প্রায় ১২০০ মন্দির থেকেও মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় স্থানে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনও নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য না করে সব ধর্মের জন্য একই নিয়ম কার্যকর করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আবু তাহের। তাঁর অভিযোগ, কোনও সরকারি নির্দেশিকা ছাড়াই কোথাও কোথাও পুলিশ মসজিদ থেকে মাইক খুলতে বাধ্য করেছে। তাঁর মতে, মাইক সরাতে হলে সংশ্লিষ্টদের আগে সময় দেওয়া উচিত ছিল।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই এনসিপিআইয়ের সাংসদ আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তাঁরা বিজেপি বা এনডিএ-র সঙ্গে নেই বলেও জানিয়েছিলেন। তবে পরে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাতরাশে যোগ দেওয়া নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান যা-ই হোক, এলাকার মানুষের স্বার্থে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁরা সহযোগিতা করবেন।এদিকে, দুই সাংসদের নবান্নে গিয়ে শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠককে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ওঁরা মোদীর বিরুদ্ধে ভোট চেয়ে জিতেছিলেন। তার পরে কেন মোদীর কাছেই যেতে হচ্ছে বুঝতে পারছি না।” পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ নিয়েও কটাক্ষ করেন কল্যাণ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal