প্রসেনজিৎ ধর:- টানা বৃষ্টির মধ্যেই চুঁচুড়ার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বড়সড় ধস নামায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চুঁচুড়া পুরসভার ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে দিয়ে যাওয়া পিপুলপাতি-বকুলতলা রোডের একাংশ আচমকাই বসে যায়। ফলে সমস্যায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলির মধ্যে অন্যতম হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রাস্তায় বেশ কিছুদিন ধরেই পাইপলাইন বসানোর কাজ চলছে। রাস্তার কাছেই রয়েছে মহকুমাশাসকের বাংলো, স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস। পাশাপাশি রয়েছে একাধিক আবাসনও। এমন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাস্তার একাংশ ধসে পড়ায় যাতায়াত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে।স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইপলাইন বসানোর কাজ চলাকালীন তাঁদের একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের দিকে কাজ চলায় প্রচণ্ড শব্দে বাড়িঘর কেঁপে উঠছে। ফলে আতঙ্কে অনেকেই রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারছেন না। ধস নামার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। অভিযোগ, সমস্যার কথা ঠিকাদার সংস্থাকে বারবার জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। এমনকি, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে বাসিন্দাদের অন্যত্র চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার রাস্তা ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। তাঁদের অভিযোগ শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক। কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি। কাজের গাফিলতি হলে সংস্থাকে ব্ল্যাকলিস্ট করার হুঁশিয়ারিও দেন বিধায়ক।
সুবীর নাগ বলেন, “যেখানে বালি দিয়ে গর্ত ভরাট করার কথা, সেখানে মাটি দেওয়া হচ্ছে। তার ফলেই ধসের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঠিকাদার সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। মানুষের সমস্যার জন্য আমরা কোনওভাবেই দায় নিতে পারি না। পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রশাসককেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য কেএমডিএকে বলা হয়েছে।”
অন্যদিকে, কাজের দায়িত্বে থাকা সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারের দাবি, এলাকায় মাটির সমস্যার কারণেই কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। তিনি বলেন, “এখানে মাটির সমস্যা রয়েছে। প্রথমে যে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছিল, পরে তা পরিবর্তন করতে হয়েছে। সেই কারণে কিছুটা সময় লাগছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করে দেওয়া হবে।”
এদিকে, রাস্তার ধসের কারণে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ চললেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁদের |
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal