নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা :- স্বাধীনতা দেশের কাছে গর্ব ও আনন্দের মুহূর্ত হলেও দেশভাগের স্মৃতি আজও বহু মানুষের কাছে গভীর যন্ত্রণার। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে অখণ্ড ভারত বিভাজিত হওয়ার সেই ইতিহাস এবং ছিন্নমূল মানুষের দুর্দশার কথা স্মরণ করে ১৪ অগস্ট ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৌলালি যুবকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক হিংসা এবং উদ্বাস্তু মানুষের দীর্ঘ যন্ত্রণার প্রসঙ্গ।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দেশভাগের সময় একাধিক ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতকে বিভাজিত করার নামে দুটি হিন্দু গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। একটি একাত্তরে বাংলাদেশ, আরেকটি ছেচল্লিশের গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নোয়াখালি গণহত্যা। এসব ভুলব কী করে?’’ সেই সময় গোপাল মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, ‘‘গোপাল মুখোপাধ্যায় সেদিন না থাকলে হিন্দুরা শূন্য হয়ে যেত।’’
দেশভাগের পিছনে ক্ষমতার রাজনীতিকেও দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, জিন্নার নেতৃত্বে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতকে ভাগ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছিল। তিনি বলেন, দেশভাগের সময় অনেকেই আশা করেছিলেন যে অখণ্ড ভারত বিভাজিত হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার স্বার্থেই দেশভাগ হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, ‘‘বিভীষিকাময় দেশভাগ। আমরা তো সবসময় পূর্ণাঙ্গ, অখণ্ড ভারত চাই।’’এবারই প্রথম রাজ্যে সরকারি উদ্যোগে পালিত হল ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিন দেশভাগের কারণে ঘরছাড়া হওয়া মানুষদের যন্ত্রণা এবং সেই সময়ের ভয়াবহ ইতিহাস স্মরণ করার উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচি। রাজ্যপাল আর এন রবির প্রস্তাব গ্রহণ করে রাজ্য সরকার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, ছত্রপতি শিবাজি এবং মহারানা প্রতাপের প্রসঙ্গ। অতীতের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে তিনি জানান, তাঁদের ভূমিকা এবং অবদান আরও ভালোভাবে জানা দরকার।কেন এই অনুষ্ঠানের জন্য উত্তর কলকাতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দেশভাগ ও দাঙ্গার সময় উত্তর কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই সময় গোপাল মুখোপাধ্যায়ের প্রতিরোধের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গও ওঠে তাঁর বক্তব্যে। শুভেন্দু জানান, আগে ওই রাস্তার নাম ‘সোহরাওয়ার্দী’ ছিল। রাজ্য সরকার সেটির নাম পরিবর্তন করে ‘গোপাল মুখার্জি অ্যাভিনিউ’ করেছে বলে জানান তিনি। নাম পরিবর্তনের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের বিতর্ক ও গবেষণা শুরু হয়েছে বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।দেশভাগের স্মৃতি সংরক্ষণে শিয়ালদহ স্টেশনে স্মারক নির্মাণের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে। দেশভাগের শিকার মানুষদের স্মৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।স্বাধীনতার আনন্দের পাশাপাশি দেশভাগের ক্ষতকেও মনে রাখার বার্তা দিয়েই শেষ হয় ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’-এর অনুষ্ঠান। অতীতের সেই রক্তাক্ত অধ্যায় ভুলে না গিয়ে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার উপরই জোর দেওয়া হয় এদিন।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal