দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নারীশিক্ষার ভাবনাকে সামনে রেখে রাজ্যে মেয়েদের শিক্ষা, ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তায় একাধিক নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে শুক্রবার আলিপুরের ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত ‘কন্যারত্ন দিবস’-এর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অর্থের অভাবে কোনও ছাত্রী যাতে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য না হয়, তা নিশ্চিত করতে আর্থিক সহায়তার পরিমাণও বাড়ানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে স্কুলছাত্রীদের এককালীন ১,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। রাজ্যের প্রায় ২০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রী এই সুবিধা পাবেন। তাঁদের জন্য বরাদ্দ ৪০০ কোটি টাকা শুক্রবারই স্কুলগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা জানান তিনি। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে এই আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করে বছরে ২,০০০ টাকা করা হবে।এদিন আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প চালুর কথা ঘোষণা করা হয়। রাজ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে যুক্ত হল কেন্দ্রের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ প্রকল্প। পাশাপাশি শিশুদের দেখভালের জন্য ‘পালনা’ স্কিম এবং মহিলাদের জরুরি সহায়তার জন্য ১৮১ হেল্পলাইনও চালু করা হল। সরকারের দাবি, মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে তাঁদের আরও স্বনির্ভর করে তুলতেই এই পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এতদিন ‘কন্যাশ্রী’ নামে যে প্রকল্পটি চালু ছিল, তার নাম বদলে ‘কন্যারত্ন’ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, রাজ্যের প্রতিটি কন্যাই এক একটি রত্ন। তাঁদের পড়াশোনার পাশাপাশি দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করাই সরকারের লক্ষ্য। নতুন প্রজন্মের মেয়েদের মাতঙ্গিনী হাজরার মতো সাহসী ও আত্মত্যাগী ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠার আহ্বানও জানান তিনি।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও ছাত্রীদের জন্য সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’-এর আওতায় উচ্চশিক্ষারত ছাত্রীরা এককালীন ২৫ হাজার টাকা করে পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, নারীশিক্ষার প্রসার, আর্থিক সহায়তা, নিরাপত্তা এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ—এই চারটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখেই ‘কন্যারত্ন’ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করা হবে। লক্ষ্য, কোনও মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন অর্থ বা নিরাপত্তার অভাবে থমকে না যায়।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal