Breaking News

‘এই বাংলা শ্যামাপ্রসাদ-প্রণবানন্দের, নেতাজি-ক্ষুদিরামের মাটি’, রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে রাষ্ট্রবাদ ও উন্নয়নের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেখিয়েছেন, তা বাস্তবায়িত করতে হলে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ে তোলা জরুরি। শনিবার রেড রোডে দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যের উন্নয়নে সকলকে একসঙ্গে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁর বার্তা, “আসুন, আমরা পশ্চিমবঙ্গকে ভারতসেরা করে তুলি।”মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম রেড রোডে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে মাল্যদান করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। ‘বন্দে মাতরম্’ ও জাতীয় সঙ্গীতের পর ১৪ জন আইপিএস আধিকারিককে মুখ্যমন্ত্রী পদক প্রদান করা হয়। এরপর কুচকাওয়াজ ও ট্যাবলো প্রদর্শন শেষে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন মুখ্যমন্ত্রী।নিজের সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, ২০২৬ সালের ৯ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে যে মন্ত্রগুপ্তির শপথ তিনি নিয়েছেন, সেই শপথ মেনেই রাজ্যবাসীর আশা-ভরসা পূরণে কাজ করবে তাঁর সরকার। তাঁর কথায়, “এই পশ্চিমবঙ্গ গৌরবের পশ্চিমবঙ্গ। যে পশ্চিমবঙ্গ ১৯৪৭ সালের ২০ জুন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। আমাদের সরকারের লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গকে ফের তার গৌরবের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া।”
কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, নাগরিক সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড় থেকে সাগর, জঙ্গলমহল থেকে তরাই-ডুয়ার্স—রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
রাজ্যের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “বাংলা রাষ্ট্রবাদের জায়গা, ঋষি অরবিন্দ, নেতাজি, ক্ষুদিরামের মাটি। এই মাটিতে মাতঙ্গিনী হাজরা, বীণা দাসের মতো বীরাঙ্গনারা স্বাধীনতা সংগ্রামে লড়াই করেছেন।” রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে বাংলার উন্নয়নে সবাইকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, হাতে হাত মিলিয়ে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূরে সরিয়ে বাংলার উন্নয়নে শামিল হই।”
শেষে নিজের শপথের কথা স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃঢ় বার্তা, ৯ মে ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ব্রিগেডের মঞ্চে যে সংকল্প নিয়ে তিনি শপথ নিয়েছেন, সেই শপথের কোনও অসম্মান হবে না। রাজ্যের উন্নয়ন ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণেই তাঁর সরকার কাজ করে যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *