প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- মেট্রোপলিটন ভবনে তখন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আয়োজন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূলের দখলে থাকা অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ রায়, কোহিনূর মজুমদাররা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মীরা। আচমকাই সেখানে দেখা গেল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে। ঋতব্রত শিবিরকে নিয়ে অতীতে একাধিকবার সরব হওয়া কুণালকে চন্দ্রিমা, অরূপদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যেতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।
তবে কি ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে কুণাল ঘোষের দূরত্ব কমছে? নাকি শুধুই বিধায়ক হিসেবে এলাকার কর্মসূচিতে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি? কুণালের আচমকা হাজিরা ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
অন্যদিকে, তপসিয়ায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ কালীঘাটপন্থী শাখা সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং ছাত্র-যুবরা।মেট্রোপলিটনের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কারণ অবশ্য নিজেই স্পষ্ট করেছেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, মেট্রোপলিটনের সামনে দিয়ে যাতায়াতের সময় তিনি দেখতে পান, তাঁর দলের নাম করে সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠান হচ্ছে। দলের কর্মসূচি দেখে গাড়ি থেকে নেমে তিনি সেখানে যান। ঘটনাটি আবার তাঁর নিজের বিধানসভা এলাকার মধ্যেই হওয়ায়, বিধায়ক হিসেবে সেখানে যাওয়া স্বাভাবিক বলেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।ঋতব্রতপন্থী শিবিরের ওই কর্মসূচিতে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ রায়, বিপ্লব মিত্র-সহ একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে দূরত্ব তৈরি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে থাকা এই নেতারাই বর্তমানে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে দাবি ওই শিবিরের।অনুষ্ঠানে কুণালকে দেখে তাঁকে বক্তব্য রাখার অনুরোধও করা হয়। চন্দ্রিমা-অরূপদের অনুরোধে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেন তিনি। বক্তৃতায় অবশ্য নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট রাখেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।কুণালের কথায়, “আমি গাড়ি থেকে আচমকাই নেমে সেখানে যাই। কারণ আমি তো ওখানকার বিধায়ক। আর আমার দলের নাম করে পতাকা তোলা হচ্ছে। তাই আমি যাই। আমাকে দেখে তাঁরা বিস্মিত হন বটে। শ্রদ্ধা জানাই, শহিদবেদিতে ফুল দিই। আমি চলে যাচ্ছিলাম, তখন আমাকে বক্তৃতা দিতে বলেন ওঁরা।”বক্তৃতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপি সাংসদের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন কুণাল। তাঁর দাবি, নেতাজিকে যেভাবে অপমান করা হয়েছে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট সাংসদকে গ্রেফতার করা উচিত।কুণালের ব্যাখ্যায় আপাতত বিষয়টি নিছকই এলাকার বিধায়ক হিসেবে দলের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ঘটনা। কিন্তু যে শিবিরকে তিনি অতীতে একাধিকবার নিশানা করেছেন, সেই শিবিরের নেতাদের সঙ্গে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর একসঙ্গে উপস্থিতি যে নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এই উপস্থিতি নিছক সৌজন্য, নাকি তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণে কোনও নতুন বার্তার ইঙ্গিত—তার উত্তর মিলবে আগামী দিনে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal