দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- রাজ্যের সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর। ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের আওতায় চিকিৎসা পরিষেবার অনুমোদিত খরচের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এই হার সংশোধন করা হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন হার কার্যকর হবে বলে অর্থদপ্তরের মেডিক্যাল সেলের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।এতদিন ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমে চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত প্যাকেজ রেট তুলনামূলক কম থাকায় সমস্যায় পড়ছিলেন সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা। চিকিৎসা পরিষেবার খরচ ক্রমশ বাড়লেও পুরনো হারেই পরিষেবা দেওয়ার ফলে অনেক হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের পক্ষেও তা বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এবার কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সর্বশেষ হার অনুসরণ করে নতুন চিকিৎসা খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন ব্যবস্থায় ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের আওতায় থাকা হাসপাতালগুলিকে তিনটি টিয়ারে ভাগ করা হয়েছে। কলকাতা মহানগরের হাসপাতালগুলি থাকবে টিয়ার-১-এ। আসানসোল, দুর্গাপুর এবং শিলিগুড়ির হাসপাতালগুলিকে রাখা হয়েছে টিয়ার-২-এ। রাজ্যের অন্যান্য এলাকার হাসপাতালগুলি পড়বে টিয়ার-৩-এর আওতায়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, টিয়ার-২ এলাকার হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার অনুমোদিত হার কলকাতার তুলনায় ১০ শতাংশ কম হবে। অর্থাৎ কলকাতার টিয়ার-১ হাসপাতালের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারের তুলনায় আসানসোল, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়িতে ১০ শতাংশ কম টাকা পাওয়া যাবে। একইভাবে টিয়ার-৩ এলাকার হাসপাতালগুলিতে অনুমোদিত হার টিয়ার-১-এর তুলনায় ২০ শতাংশ কম রাখা হয়েছে।শুধু চিকিৎসার প্যাকেজ রেটই নয়, বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ইমপ্ল্যান্টের খরচ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হেলথ স্কিমের সর্বশেষ হার গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকেও ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের আওতায় আনা হয়েছে।তবে কয়েকটি হাসপাতালের ক্ষেত্রে এই সংশোধিত হার কার্যকর হবে না। টাটা মেডিক্যাল সেন্টার, চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট (সিএনসিআই) এবং এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে আগের নির্ধারিত হারই বহাল থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ছোট ও মাঝারি নার্সিংহোমগুলির সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিং হোম’। সংগঠনের সম্পাদক ডা. রাজীব পাণ্ডে জানিয়েছেন, এতদিন ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমে বরাদ্দ কম থাকার পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবার খরচ অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় পুরনো রেটের সঙ্গে বাস্তব খরচের সামঞ্জস্য রাখা সম্ভব হচ্ছিল না।
তাঁর দাবি, পুরনো হারে পরিষেবা দিতে গিয়ে বহু হাসপাতাল ও নার্সিংহোম সমস্যায় পড়ছিল। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের রোগীদের ভর্তি করাতেও অনীহা তৈরি হচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতে নতুন সরকার দ্রুত প্যাকেজ রেট সংশোধন ও বৃদ্ধি করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি।ফলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন হার কার্যকর হলে ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিমের আওতাভুক্ত কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্বস্তি মিলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal