প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- পুরনিয়োগে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর জামিনের আবেদনের শুনানি শেষ হলেও আপাতত স্বস্তি পেলেন না তিনি। কলকাতা হাইকোর্টে দীর্ঘ শুনানির পর মামলাটির রায়দান স্থগিত রেখেছেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তবে চলতি সপ্তাহেই রায় ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।সোমবার হাইকোর্টে সুজিত বসুর হয়ে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তাঁর দাবি, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার পরও সুজিত বসুকে জেলে আটকে রাখার কোনও যুক্তি নেই। ইডি তাঁর গ্রেফতারিকে যথাযথ ভাবে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ করতে পারেনি বলেও আদালতে দাবি করেন তিনি।সিঙ্ঘভির আরও বক্তব্য, ২০১৬ সালের পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি সুজিত বসুকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। অথচ সিবিআইয়ের তরফে ২০২৪-২৫ সালে যে চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে সুজিত বসুর নাম ছিল না। আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে যখনই ডাকা হবে, তিনি তদন্তকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে, এই মামলায় দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করার অভিযোগ রয়েছে সুজিতের বিরুদ্ধে। ইডির দাবি, প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম ওই তালিকায় ছিল। দুর্নীতির মাধ্যমে পাওয়া টাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।গ্রেফতারির আগে একাধিক বার সুজিত বসুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। ভোটের আগে তাঁকে কয়েক দফায় তলব করা হয়। প্রচারের ব্যস্ততার কারণে সেই সময় হাজিরা দিতে পারেননি বলে জানিয়েছিলেন তিনি। পরে গত ১ মে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়ে কয়েক ঘণ্টা জেরার পর বাড়ি ফেরেন। এরপর ১১ মে ফের ইডি দফতরে হাজির হলে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।এদিন দুই পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর আপাতত রায়দান স্থগিত রেখেছে হাইকোর্ট। এখন আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর আইনজীবীরা।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal