প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগের মামলায় ফের স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জুলাইয়ের পর এ বারও তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের ‘দমনমূলক’ পদক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার, ১৭ অগস্ট বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে মামলার শুনানি হয়। আদালত জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও দমনমূলক পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ।অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অয়ন ভট্টাচার্য। অন্যদিকে, মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির হয়ে সওয়াল করেন রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার। তিনি আদালতকে জানান, সই জালিয়াতি সংক্রান্ত ফরেনসিক রিপোর্ট ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে। সেখানে তিন জন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে প্রমাণ মিলেছে।মামলায় মোট ৭০ জন বিধায়কের সই থাকার কথা আদালতে জানানো হয়। তবে অভিযোগ উঠেছিল পাঁচ জন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। রাজ্যের দাবি, ওই পাঁচ বিধায়কই তদন্তকারীদের কাছে বয়ান দিয়েছেন। ফরেনসিক পরীক্ষায় তাঁদের মধ্যে তিন জনের সই জাল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
তদন্ত কত দূর এগিয়েছে এবং তা শেষ করতে আরও কত সময় লাগবে, তা-ও জানতে চায় আদালত। তখন রাজ্যের তরফে জানানো হয়, ৬ মে কোনও রেজ়োলিউশন হয়নি। অথচ সেই তারিখ উল্লেখ করে একটি রেজ়োলিউশন তৈরি করা হয়েছিল। বিধায়কদের ৬ মে সই করানো হয়নি, বরং ১৯ মে তাঁদের সই নেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ৬ মে-র তারিখ দেওয়া ওই রেজ়োলিউশন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের প্যাডে লিখে বিধানসভার স্পিকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি রাজ্যের।
এই ঘটনায় পাঁচ বিধায়ক তাঁদের সই জাল করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের কাছে জানিয়েছেন। ফরেনসিক রিপোর্টেও তিনটি সই জাল হওয়ার প্রমাণ মিলেছে বলে আদালতে জানানো হয়।
তবে এই সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি জালিয়াতির যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ। তাঁর পর্যবেক্ষণ, প্রাথমিক ভাবে অভিষেক এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে আদালতের মনে হচ্ছে না।সিআইডির তরফে একটি বয়ানকে জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে আদালতে তুলে ধরা হলে তা পড়ে বিচারপতি চন্দ প্রশ্ন করেন, সেখানে তো শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে তৃণমূল বিধায়কদের একসঙ্গে থাকার কথা বলা হয়েছে। এর বাইরে ওই বয়ানে জালিয়াতির সঙ্গে অভিষেকের যোগের প্রমাণ কোথায়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কে ওই নথি তৈরি করেছেন, সেই বিষয়টিও তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখতে বলেন বিচারপতি।
আদালত আরও জানায়, তদন্তে জালিয়াতি ছাড়াও অন্য কোনও ধারার প্রাসঙ্গিকতা থাকলে তা খতিয়ে দেখতে পারে সিআইডি। তবে আপাতত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও দমনমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে নভেম্বরে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal