দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। স্পিকারের সিদ্ধান্তে এই মুহূর্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি বিচারপতি শম্পা সরকারের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা পদে থাকা আপাতত অস্থায়ী।মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আগামী দু’মাসের মধ্যে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চকে মূল মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে হবে। অর্থাৎ, আপাতত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিরোধী দলনেতার পদে বহাল থাকবেন ঋতব্রত। তবে দু’মাস পর এই পদে কে থাকবেন, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে।
বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয় পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলের অভ্যন্তরে তৈরি হয় মতবিরোধ। তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষদীয় দলনেতা তথা বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেন। ৯ মে স্পিকারকে চিঠি দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত জানানো হলেও, স্পিকার কোনও পদক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ।পরবর্তী সময়ে দলের অন্দরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ১ জুন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর পর ৩ জুন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কেরা ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দেন। সেই চিঠির ভিত্তিতেই স্পিকার ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন।স্পিকারের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্পিকারের সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত নয়।
মঙ্গলবার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, এখনই স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করা হবে না। তবে সেই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বলেও গণ্য করা হচ্ছে না। দু’মাসের মধ্যে সিঙ্গল বেঞ্চে মূল মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদে স্থায়ীভাবে কে থাকবেন।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal