প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-কলকাতা হাইকোর্টে আপাতত স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে এখনই কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিল হাই কোর্ট। সোমবার বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৭ অগাস্ট।
হিংসায় উসকানি, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং তুলসীমালা-সহ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়ে মহুয়া মৈত্রের বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে ঘূর্ণির কয়েকজন মহিলা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ওঠে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে। একাধিক শুনানির পর মহুয়াকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে তিনি হাজির হননি। আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে জানানো হয়, তিনি উপস্থিত হতে পারবেন না। এরপরই কৃষ্ণনগর জেলা আদালতের তৃতীয় কোর্টের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দিব্যেন্দু দাস তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
সেই পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মহুয়া। সোমবার শুনানিতে বিচারপতি দেবাংশু বসাক তাঁর আইনজীবীর কাছে জানতে চান, অপরাধ বিবেচনার আগের পর্যায়েই কেন আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়নি। জবাবে মহুয়ার আইনজীবী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের এই মামলা পরিচালনার এক্তিয়ার নেই। মহুয়া মৈত্র সাংসদ হওয়ায় মামলাটি এমপি-এমএলএ আদালতেই চলা উচিত বলে সওয়াল করেন তিনি।
এরপর বিচারপতি জানান, এটি জামিনযোগ্য অপরাধ এবং সাংসদের আদালতে হাজির হওয়া উচিত ছিল। মহুয়ার পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়, তিনি আদালতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে আগে কোনও এফআইআর বা পুলিশ মামলা না থাকায় নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আপাতত কোনও কঠোর পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। ফলে পরোয়ানা জারি নিয়ে সাময়িক স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal