Breaking News

ফুটপাথে দুধ গরম কাণ্ডে মর্মাহত মমতা! ‘মায়ের অভিশাপ…’, নাম না করে অগ্নিমিত্রাকে কটাক্ষ, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা!

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- দিনকয়েক ধরেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনায় রয়েছে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে দুধ গরম করার ঘটনা। অভিযোগ, ফুটপাথের একাংশ আটকে এক মহিলা তাঁর নাতির জন্য দুধ গরম করছিলেন। সেই সময় সেখানে গিয়ে তাঁকে ধমক দেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ঘটনাটি সামনে আসার পরই শুরু হয় বিতর্ক। একজন জনপ্রতিনিধি কীভাবে শিশুর জন্য দুধ গরম করা নিয়ে আপত্তি জানাতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। এই বিতর্কের মধ্যেই এবার সরাসরি মুখ খুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ফেসবুক লাইভে গিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। মমতা বলেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে ঘৃণা করা কোনও জনপ্রতিনিধির শোভা পায় না। এরপরই ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, ফুটপাথবাসী পরিবারটি যদি রাজি থাকে, তাহলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁদের সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা করতে চান। আপাতত দলের কোনও কর্মী বা সমর্থকের বাড়িতে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি শিশুটির ভবিষ্যৎ পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিতর্ক তীব্র হওয়ার পর সোমবার একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, পার্ক স্ট্রিটের মতো ব্যস্ত ও সংকীর্ণ ফুটপাথে প্রকাশ্যে আগুন জ্বালিয়ে রান্না করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনও সময় আগুন থেকে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই তিনি ফুটপাথে রান্না বন্ধ করতে বলেছিলেন বলে দাবি করেন মন্ত্রী।
অগ্নিমিত্রার স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও শিশুর মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তবে ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর ভাষা ও আচরণ আরও কোমল এবং সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত ছিল বলেও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে ফুটপাথ দখল ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়ে নিরাপত্তার প্রশ্ন, অন্যদিকে অসহায় ফুটপাথবাসী পরিবারের প্রতি মানবিকতার দাবি—দুইয়ের সংঘাতে পার্ক স্ট্রিটের এই ঘটনা এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। মমতার পাশে দাঁড়ানোর বার্তার পর সেই বিতর্ক আরও একধাপ বাড়ল।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *