Breaking News

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে আচমকা দমকল-পুলিশ! সাততলা ভবনে ‘ফায়ার অডিট’, ছয়-সাত তলায় মিলল একাধিক গলদ

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-সোমবার দুপুরে আচমকাই ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের একটি বহুতলে পৌঁছে গেল দমকলের একটি দল। সঙ্গে ছিল শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। এই ভবনেই রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস। আচমকা দমকল ও পুলিশের উপস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয় চাঞ্চল্য।
কেন এই পরিদর্শন? দমকল আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্তমানে কলকাতার বিভিন্ন ছোট-বড় বহুতলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ফায়ার অডিট চলছে। সেই নিয়মিত অডিটের অংশ হিসেবেই ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনে যাওয়া হয়েছে। বিল্ডিংয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকঠাক রয়েছে কি না, কোথাও কোনও ত্রুটি রয়েছে কি না, মূলত সেটিই পরীক্ষা করা হয়।
দমকল আধিকারিকরা ভবনে ঢোকার পর প্রথমেই নজর দেন সামনের একটি টিনের শেডের দিকে। বেশ কিছুক্ষণ সেটি পরিদর্শন করেন তাঁরা। পরে বেসমেন্ট থেকে শুরু করে ছাদ পর্যন্ত গোটা ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়। উপর থেকে নীচের তলাগুলিতেও ফের এক দফা ফায়ার সেফটি চেক করা হয়।
দমকল সূত্রের দাবি, সাততলা ওই ভবনের পাঁচতলা পর্যন্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় কোনও সমস্যা নজরে আসেনি। তবে ছয় ও সাততলায় একাধিক ত্রুটি ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই দুই তলায় ওয়াটার স্প্রিঙ্কলার, ওয়াটার রিজার্ভার, ফায়ার অ্যালার্ম-সহ কয়েকটি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সচল ছিল না বলেই প্রাথমিক পরিদর্শনে উঠে এসেছে বলে দমকল সূত্রে খবর।এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অ্যাডিশনাল ফায়ার সেফটি অফিসার সৌরভ বাগ জানান, বর্তমানে শহরের বিভিন্ন ছোট-বড় ভবনেই ফায়ার অডিট চলছে। ক্যামাক স্ট্রিটের এই ভবনেও সেই নিয়ম মেনেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে।
তবে এই দমকল অভিযান এমন সময়ে হল, যখন ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিসে ‘বেআইনি’ বিলবোর্ড খোলা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানাপোড়েন চলছে। সোমবারই এফআইআরের অনলাইন কপি নিয়ে পুলিশকে পালটা ই-মেল করেন তৃণমূল সাংসদ। মঙ্গলবার তাঁকে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরার জন্য তলব করা হয়েছিল।
অভিষেকের আইনজীবী অর্ক নাগের দাবি, তাঁর মক্কেলের বাড়িতে নোটিস পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্ট এফআইআর বা নোটিসের কপি কলকাতা পুলিশের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছিল না। সেই প্রশ্ন তুলেই পুলিশকে ই-মেল করা হয়েছিল। যদিও কলকাতা পুলিশের তরফে পালটা ওয়েবসাইটে নথি আপলোড করে তার প্রমাণ দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সোমবার ক্যামাক স্ট্রিট মামলায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দেননি তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনও। দুপুর ১২টার সময় তাঁকে থানায় ডাকা হয়েছিল। তবে তার আগেই আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়ে চিঠি পাঠান তিনি। পরে তাঁর বাড়িতে দ্বিতীয় নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *