প্রসেনজিৎ ধর :-২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগের প্যানেল বাতিলের পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শুরু হওয়া ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এবার সেই নিয়োগ শেষ করতে আরও সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া বর্ধিত সময়সীমা ৩১ অগস্ট শেষ হওয়ার আগেই আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। অর্থাৎ, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও প্রায় আট মাস সময় চাইছে কমিশন।সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সচিন সচদেবার বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা। এর আগে প্রথমে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার সময়সীমা দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩১ অগস্ট করা হয়। এবার সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখেই ফের সময় বৃদ্ধির আবেদন জানাল SSC।
কমিশনের এই আবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তাঁর বক্তব্য, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গিয়েছে। দ্রুত সমস্ত আইনি জটিলতা কাটিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।উল্লেখ্য, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে SSC-র শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই মামলায় ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্যানেল বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ মেনে গত বছরের সেপ্টেম্বরে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ফের পরীক্ষা নেয় SSC। মোট ৪৪টি বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছিল।
কিন্তু নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও একাধিক জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে আদালতে জানাতে চলেছে কমিশন। SSC-র দাবি, পরীক্ষার ‘অ্যানসার কি’ প্রকাশের পর বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। বিষয়ভিত্তিক প্রায় ১ লক্ষ ২৯ হাজার অভিযোগ এসেছে। সেগুলি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই একটি রিভিউ কমিটি তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেগুলি যাচাই করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে কমিশনের দাবি।এর পাশাপাশি পাঁচ লক্ষেরও বেশি ওএমআর শিট স্ক্যান করার ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়েছিল বলে জানিয়েছে SSC। নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বহু ওএমআর শিট তিন দফায় স্ক্যান করতে হয়েছে। ফলে গোটা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় লেগেছে।নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার আরও কয়েকটি কারণের কথাও আদালতকে জানাতে চাইছে কমিশন। তাদের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে SSC-র চেয়ারম্যান এবং পাঁচটি জোনের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকেরা ছিলেন। ভোটের পর তাঁদের অনেকেই পদত্যাগ করেছেন। নেতৃত্বের এই পরিবর্তনের প্রভাবও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পড়েছে বলে দাবি কমিশনের।এর পাশাপাশি ওবিসি সংরক্ষণ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। কমিশনের দাবি, পূর্বতন সরকারের নীতি অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজ এগিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সরকারের নীতিগত অবস্থান বদলেছে। তাই এই পরিস্থিতিতে কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোনো হবে, সে বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছেও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।এর মধ্যেই ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে নতুন নিয়মে তৈরি হওয়া ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দিয়েছে হাই কোর্ট। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি বিভাজন আর কার্যকর নেই। ফলে ওই শংসাপত্রগুলির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের সাধারণ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি সামনে এসেছে।এই পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশ মেনে ওবিসি সংরক্ষণের বিষয়টি কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কার্যকর করা হবে, তা নির্ধারণ করতেও সময় প্রয়োজন বলে জানাচ্ছে SSC। সব মিলিয়ে ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও আট মাস সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে কমিশন ও রাজ্য।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal