Breaking News

তৃণমূলের প্রতীক-তহবিল নিয়ে ফের নির্বাচন কমিশনে মমতা! ‘আর দেরি নয়, তাড়াতাড়ি ফয়সালা করুন’—চিঠিতে কড়া বার্তা

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-বিধানসভা নির্বাচনের পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে তৈরি হওয়া ভাঙন এবং দলীয় প্রতীক ও তহবিলের মালিকানা নিয়ে জট এখনও কাটেনি। কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের বিবাদ চলতি অগস্ট মাসের মধ্যেই মিটে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে চললেও দিল্লির নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ফের কমিশনকে চিঠি দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানালেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের একাংশের বিধায়ককে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে পৃথক তৃণমূল কংগ্রেস। বর্তমানে রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার দায়িত্বও সামলাচ্ছেন ঋতব্রত। এরপর থেকেই জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের যাবতীয় তহবিলের অধিকার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র টানাপোড়েন। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দরবারে।
গত ২ জুলাই দুই শিবিরকে নোটিস পাঠিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে বলে কমিশন। ৬ জুলাই উভয় পক্ষই প্রাথমিক জবাব জমা দেয়। পরে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্যপ্রমাণও পেশ করা হয়। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে নথি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়। কালীঘাট শিবিরের হয়ে সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও সাগরিকা ঘোষ কমিশনের কাছে তাঁদের পক্ষের তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবির আরও কিছুটা সময় চেয়ে আবেদন জানায়। সেই অতিরিক্ত সময় দেওয়ার বিরোধিতা করে গত ২৯ জুলাই প্রথমবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য পক্ষকে কেন বাড়তি সময় দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি প্রতীক ও তহবিল সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আর্জিও জানান তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা ছিল, ১৫ অগস্টের মধ্যেই এই বিতর্কে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। কিন্তু অগস্ট মাসের শেষ দিন পর্যন্তও কোনও ফয়সালা না হওয়ায় ফের কমিশনের দ্বারস্থ হলেন মমতা। সোমবার নতুন করে পাঠানো চিঠিতে দ্রুত জোড়াফুল প্রতীক এবং দলীয় তহবিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, বহুদিন ধরে বিষয়টি ঝুলে রয়েছে, তাই আর দেরি না করে দ্রুত প্রতীক ও ফান্ডের প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। জানা গিয়েছে, দলনেত্রীর চিঠির সঙ্গে কয়েকজন বিধায়কের লিখিত বক্তব্যও সংযুক্ত করা হয়েছে।ওই বিধায়কদের দাবি, এর আগে নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কারা হঠাৎ নতুন করে লিখিত বক্তব্য দিলেন এবং তার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। মমতার নতুন চিঠির পর নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ করে এবং প্রতীক ও তহবিলের দীর্ঘদিনের জট কবে কাটে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *