Breaking News

চাকরির টোপ দিয়ে ভিনরাজ্যে নিয়ে গিয়ে কিডনি বের করে নেওয়ার অভিযোগ! বাংলায় সক্রিয় পাচারচক্রের হদিস, নিউটাউন থেকে গ্রেফতার বাংলাদেশি

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- চাকরি দেওয়ার নাম করে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় নিয়ে গিয়ে কিডনি বের করে নেওয়ার অভিযোগের তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। এই ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিককে নিউটাউন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় চার মাস ধরে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে নিউটাউনে ভাড়া থাকছিলেন ওই ব্যক্তি।রাজ্যে কিডনি পাচার চক্রের তদন্ত করতে গিয়ে এবার সামনে এল বাংলাদেশ যোগ। বাগুইআটির আটঘড়া ফুলতলা এলাকা থেকে বেঙ্গল এসটিএফের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক রাসেল আহমেদ। শনিবার রাতে তাঁকে গ্রেফতারের পর বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় এসটিএফ। রবিবার তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হয়।তদন্তকারীদের দাবি, কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে রাসেলের পুরনো যোগাযোগ রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে একই ধরনের অভিযোগে দিল্লি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। তদন্তে তখন উঠে আসে, বাংলাদেশি নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ভারতে এসে বেআইনিভাবে আধার এবং প্যান কার্ড তৈরি করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে এ রাজ্যে বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।পুলিশ সূত্রের খবর, রাসেল একা নন, আরও কয়েক জন বাংলাদেশি নাগরিককে সঙ্গে নিয়ে কিডনি পাচারের নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এই মামলার সূত্রপাত গত ১৮ অগস্ট। এক ভুক্তভোগীর বাবা বিধাননগর পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ প্রথমে চক্রের এক মিডলম্যান প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তদন্তকারীদের সামনে আসে রাসেল আহমেদের নাম। এরপরই তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়।তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদেরই নিশানা করত এই চক্র। মোটা বেতনের চাকরির টোপ দিয়ে তাঁদের অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়া হত। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছনোর পর পরিকল্পিতভাবে তাঁদের কিডনি বের করে নেওয়া হত।
রাসেলকে গ্রেফতারের পর তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। এর মধ্যে একটি ‘রেট চার্ট’ও রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল সংক্রান্ত কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই নথিতে কোন হাসপাতালে কত কিডনির প্রয়োজন, সে সম্পর্কিত তথ্যের উল্লেখ রয়েছে।উদ্ধার হওয়া নথি ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে চক্রটির পরিধি বোঝার চেষ্টা করছে পুলিশ। রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত আরও ব্যক্তিদের সন্ধান এবং মূলচক্রীর কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কিডনি পাচারের এই চক্রের যোগাযোগ শুধু বাংলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ এবং দেশের একাধিক রাজ্যেও এর শিকড় ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *