Breaking News

অফিস টাইমে শিয়ালদহ স্টেশনের ফুড প্লাজায় আগুন! পর্যাপ্ত জল মেলেনি, কাজ করেনি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও, দমকলের অভিযোগ

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই শিয়ালদহ স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ছড়াল তীব্র আতঙ্ক। সোমবার সকালেই স্টেশনের বাইরে ফুড প্লাজার একটি খাবারের দোকান থেকে আচমকা ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। ব্যস্ত সময়ে স্টেশন চত্বরে এমন ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে হইচই শুরু হয়ে যায়।দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ ফুড প্লাজার একটি দোকান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। ততক্ষণে দোকানের ভিতরে আগুন বেশ খানিকটা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফুড প্লাজার কাচ ভেঙে ভিতরে জল দেওয়ার কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা।
ফুড প্লাজায় পাশাপাশি একাধিক খাবারের দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকানে রান্নার তেল-সহ বিভিন্ন দাহ্য সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। সেই কারণেই পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন দমকল আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই গার্ডরেল দিয়ে এলাকা ঘিরে দেওয়া হয়।
শিয়ালদহ স্টেশনের দক্ষিণ শাখা এবং মেন শাখার দিকে যাতায়াতের জন্য এই অংশের রাস্তা তুলনামূলক সরু। ফলে অফিস টাইমে ওই এলাকায় আগুন আরও ছড়িয়ে পড়লে বড়সড় বিপত্তি ঘটতে পারত। আগুনের উৎস এবং কীভাবে তা ছড়াল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে আগুন নেভানোর শুরুতেই সমস্যায় পড়তে হয় দমকলকে। দমকলকর্মীদের দাবি, স্টেশন চত্বরের পাইপলাইন থেকে প্রয়োজনীয় জল পাওয়া যায়নি। ফলে নিজেদের গাড়িতে থাকা জল দিয়েই প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালাতে হয়। পরে বিকল্প উৎস থেকে জল এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
দমকলের আরও অভিযোগ, ফুডকোর্টের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করেনি। পাশাপাশি দোকানগুলি কাচ দিয়ে ঘেরা থাকায় ভিতরের ধোঁয়া বাইরে বেরোতে পারছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাচ ভেঙে ধোঁয়া বের করার ব্যবস্থা করেন দমকলকর্মীরা। আগুনের উৎসের কাছাকাছি পৌঁছতে বিশেষ সুরক্ষা পোশাক পরিয়ে কয়েকজন কর্মীকে ভিতরেও পাঠানো হয়।
দমকল আধিকারিকদের দাবি, খবর পাওয়ার পর দ্রুতই তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। কিন্তু পর্যাপ্ত জল না পাওয়ায় আগুন নেভানোর কাজে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ওই খাবারের দোকানে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা। দমকলের অভিযোগের বিষয়ে তিনি প্রাথমিকভাবে একমত নন। ডিআরএম জানান, বিষয়টি পুরোপুরি খতিয়ে না দেখে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, ঘটনাটি বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড নয়, মূলত ঘন ধোঁয়ার কারণেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *