Breaking News

রেল-রাস্তা-স্বাস্থ্য থেকে দমকল, নন্দীগ্রামে একগুচ্ছ ঘোষণা শুভেন্দুর! ‘আগের সরকার উন্নয়ন বন্ধ করেছিল’, মমতাকে তোপ

নিজস্ব সংবাদদাতা :- সোমবার নন্দীগ্রামে একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেয়াপাড়ার অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য, রাস্তা, রেল, সেতু থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামের উন্নয়নকে তাঁর সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় শীর্ষে রাখার আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকা মানুষদের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পে রাজ্যের প্রায় ১৯০০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ মিলবে। পাশাপাশি রাজ্যের বাইরের কয়েকটি বড় হাসপাতালেও ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।আগের সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থার তুলনা টেনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ব্যবহার হয়েছিল।
এদিনের অনুষ্ঠানে নন্দীগ্রামের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘নন্দীগ্রাম ভাল থাকলে আমি ভাল থাকব।’’ পাশাপাশি বিজেপিকে আরও বেশি ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি। ২০২৬ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা উপনির্বাচনে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ টেনে নন্দীগ্রামে সেই ব্যবধান ছাপিয়ে যাওয়ার ডাক দেন শুভেন্দু।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৎকালীন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। ২০২৬ সালে সেই ব্যবধান বেড়ে সাড়ে ৯ হাজারেরও বেশি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আবার ২০১৬ সালে নন্দীগ্রাম থেকেই তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে শুভেন্দু বলেন, ‘‘একবার ৮২ হাজার ভোটে জিতিয়েছিলেন। মনে আছে তো? ফলতার উপরে যাবেন তো? দু’হাত তুলে কথা দিন। রাজ্যের উন্নয়ন তো করবই। অগ্রাধিকারে এক নম্বরে থাকবে নন্দীগ্রাম।’’
নন্দীগ্রামে রেল পরিষেবা সম্প্রসারণ নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে রেলস্টেশন তৈরির জন্য দীর্ঘদিন ধরে জমির প্রয়োজন থাকলেও আগের সরকার প্রয়োজনীয় জমি রেলকে দেয়নি। মাত্র ছয় একর জমির প্রয়োজন ছিল বলে দাবি করে শুভেন্দু জানান, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সাড়ে তিন একর জমি রেলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাকি জমি হস্তান্তরের কাজও আগামী মার্চের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
নন্দীগ্রাম-বটতলা রেলস্টেশন এবং বাজকুলের মধ্যে ট্রেন পরিষেবা চালুর সম্ভাবনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথম ট্রেনে আমিই চড়ব আপনাদের নিয়ে।’’ পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকে সরকারি বাস পরিষেবা আরও সহজ করতে বাসস্ট্যান্ড তৈরির ঘোষণাও করেন তিনি | রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের খতিয়ানও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সরকারের বয়স সাড়ে তিন মাস হলেও নন্দীগ্রামে ইতিমধ্যেই ৩২টি নতুন রাস্তা তৈরি এবং সংস্কারের কাজ হয়েছে। ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত নন্দীগ্রাম বিধানসভার হরিপুরে নতুন দমকল কেন্দ্রেরও উদ্বোধন করা হয় এদিন।
মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামের ৬৭ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৭ হাজার মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও নন্দীগ্রামে কাজ হয়েছে বলে জানান তিনি। রেয়াপাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যা সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এদিনের বক্তব্যে ফের নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর আগের সরকার এলাকার উন্নয়ন থামিয়ে দিয়েছিল। এমনকি নন্দীগ্রামের নয় শহিদ পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, ক্ষমতায় এসে তাঁর সরকার ওই নয় শহিদ পরিবারের সদস্যদের চাকরি দিয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *