দেবরীনা মণ্ডল সাহা:-২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলায় বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার, ৩১ অগস্টই ছিল চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরির শেষ অনুমোদিত দিন। তবে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় তাঁদের চাকরির মেয়াদ আরও কয়েক মাস বাড়িয়ে দিল শীর্ষ আদালত।বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার নির্দেশ দিয়েছে, ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকারা চাকরিতে বহাল থাকতে পারবেন। ওই সময়ের মধ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই সময়সীমা বৃদ্ধিই শেষ সুযোগ। এরপর আর মেয়াদ বাড়ানো হবে না।
২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ পেয়েছিলেন। পরে ওই নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এবং মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল শীর্ষ আদালত গোটা প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দেয়। তবে যাঁদের সরাসরি অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা যায়নি, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের চাকরিতে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
প্রথমে চাকরিতে থাকার সময়সীমা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছিল। পরে তা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ অগস্ট করা হয়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনই ফের আদালতের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এবার ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়সীমা বাড়াল শীর্ষ আদালত।আদালতের নির্দেশে আপাতত স্বস্তি ফিরেছে চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ এখনও কাটেনি। ‘যোগ্য’ শিক্ষক সংগঠনের চিন্ময় মণ্ডল জানান, সোমবার সকাল থেকেই চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় ছিলেন তাঁরা। আদালতের নতুন নির্দেশে আপাতত স্বস্তি মিলেছে। তবে শুধু চাকরির মেয়াদ বাড়ানোই সমাধান নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চিন্ময় মণ্ডলের দাবি, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত শেষ করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাকর্মীদের নিয়োগের বিষয়টিও দ্রুত নিষ্পত্তি করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় যাঁরা সফল হতে পারেননি, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েও সরকারের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, চাকরিহারা শিক্ষক সত্যব্রত জানা নতুন নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দলনেতা থাকার সময় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের বিষয়টি নিয়ে অবগত ছিলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে ২০২৫ সালের নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ওঠা অভিযোগের কথাও সামনে আনেন তিনি।
সত্যব্রত নিজে ২০১৬ সালের নিয়োগে চাকরি পেয়েছিলেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই চাকরি চলে যায়। ২০২৫ সালের নতুন এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষাতেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু মেধাতালিকার কাট-অফের প্রতিযোগিতায় সফল হতে পারেননি। ফলে নতুন করে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা তাঁর ক্ষেত্রে কার্যত অনিশ্চিত। সুপ্রিম কোর্টের সোমবারের নির্দেশে তাঁর চাকরিতে থাকার মেয়াদ আপাতত আরও কয়েক মাস বাড়ল।
শীর্ষ আদালত অবশ্য সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি বার্তা দিয়েছে—২০২৭ সালের ৩১ মে-র পর আর কোনও মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে না। ফলে তার আগেই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করাই এখন এসএসসি এবং রাজ্য সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal