Breaking News

ডেরেক অনুপস্থিত, পুলিশি তলবে থানায় হাজির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! ক্যামাক স্ট্রিট অশান্তি মামলায় চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূল দফতরে অশান্তির ঘটনায় পুলিশি তলব। সেই নোটিস মেনেই মঙ্গলবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর ১২টা ১৭ মিনিট নাগাদ থানার ভিতরে প্রবেশ করেন তিনি।
অভিষেক থানায় পৌঁছনোর আগেই শেক্সপিয়র সরণি থানার সামনে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশের ভিড় জমে যায়। অভিষেককে ‘চক্রান্ত’ করে ফাঁসানো হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে স্লোগানও দিতে দেখা যায় তাঁদের। ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ অগস্ট। ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ের ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা ওই বিলবোর্ড নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে অভিষেকের দফতরে যান। তাঁদের সঙ্গে ছিল শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ বাহিনী। অফিসের নীচে পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।অভিযোগ, পুরসভার কর্মীরা তাঁদের কাজ করতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পুলিশ ও পুরকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এই ঘটনার জেরে শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। একটি অভিযোগ করেছেন পুরসভার এক আধিকারিক। অন্যটি পার্ক স্ট্রিট থানার এক সার্জেন্টের। সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, মারধর, মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টার মতো একাধিক অভিযোগও রয়েছে মামলায়।এই মামলাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবং অভিষেকের আপ্তসহায়ক (পিএ) সুমিত রায়কে নোটিস পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়।সোমবার দুপুর ১২টায় থানায় হাজিরার জন্য ডেরেক ও’ব্রায়েনকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেদিন থানায় যাননি। পরে সোমবার বিকেলে তাঁর বাড়িতে নতুন করে নোটিস পাঠিয়ে বুধবার হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, অভিষেককে মঙ্গলবার থানায় হাজির হতে বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন থানায় পৌঁছন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।এর আগে পুলিশি নোটিস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিষেক ও ডেরেকের আইনজীবী অর্ক নাগ। তাঁর দাবি ছিল, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫ ধারায় নোটিস দেওয়া হলেও অনলাইনে সংশ্লিষ্ট এফআইআর পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিষয়টি উল্লেখ করে পুলিশের কাছে পাল্টা নোটিস পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *