Breaking News

মমতার মামাতো ভাইয়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, বীরভূমে চাঞ্চল্য! নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরি হারানোর পর চলছিল বিবাহবিচ্ছেদের মামলা

প্রসেনজিৎ ধর :- বীরভূমের রামপুরহাটে নিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয়ার ঝুলন্ত দেহ। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নীহাররঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদের জেরেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বৃষ্টি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশেরও আত্মহত্যার তত্ত্বই সামনে এসেছে। যদিও অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামের বাড়ির দোতলার একটি ঘর থেকে বৃষ্টির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। কয়েক মাস ধরে তিনি ওই বাড়িতেই ছিলেন। সকালে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও তাঁর কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয় পরিবারের সদস্যদের। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘর থেকে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
বৃষ্টির জীবনে গত কয়েক বছর ধরেই নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল বলে পরিবার সূত্রে খবর। ২০২৩ সালের মার্চে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম সামনে আসে। বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসেবে কর্মরত বৃষ্টির নাম ‘অবৈধ’ ভাবে নিযুক্ত কর্মীদের তালিকায় ছিল। পরবর্তী সময়ে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরিও হারান তিনি।
এর পাশাপাশি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে দাবি। বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বাপের বাড়িতেই থাকছিলেন বৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে | তবে ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু, তা খতিয়ে দেখছে রামপুরহাট থানার পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের পাশাপাশি অন্যান্য সম্ভাব্য দিকও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *