Breaking News

‘সেবাশ্রয়’-এর দুই নির্মাণ দ্রুত সরানোর নির্দেশ! ফলতা মামলায় হাইকোর্টের কড়া অবস্থান, আরও চাপে অভিষেক

নিজস্ব সংবাদদাতা :-দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দুটি নির্মাণ নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। সরকারি খেলার মাঠে অনুমতি ছাড়াই বিশাল পরিকাঠামো তৈরির অভিযোগে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ।অভিযোগ, ফলতা বিডিও অফিসের কাছে একটি সরকারি খেলার মাঠের জায়গা দখল করে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির জন্য দুটি স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওই মাঠে স্কুলের ক্রীড়া অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি হয়ে আসছিল। কিন্তু নির্মাণের জেরে সেই মাঠ সাধারণ মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই অভিযোগে ফলতার এক বাসিন্দা কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন।মামলার শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের কাছে একাধিক প্রশ্ন তোলে আদালত। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘সেবাশ্রয়’-এর জন্য যে পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তার আকার কার্যত একটি মেডিক্যাল কলেজের মতো। আদালতের কড়া মন্তব্য, অবৈধ নির্মাণ সরাতে প্রশাসনকে কি আদালতের নির্দেশের অপেক্ষা করতে হবে, নাকি রাজ্য নিজেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে?
শুনানির সময় আদালত জানতে চায়, অবৈধ নির্মাণ সরানোর জন্য পুলিশি সাহায্যের প্রয়োজন হলে প্রশাসন কেন নিজে থেকে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এরপরই ফলতায় ‘সেবাশ্রয়’-এর জন্য তৈরি ওই দুটি কাঠামো দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।হাইকোর্টের এই অবস্থানের পর ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকায় ‘সেবাশ্রয়’কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ‘সেবাশ্রয়’ সংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলায় সাময়িক স্বস্তি পেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষ্ণুপুরের দুটি এবং রবীন্দ্রনগরের একটি মামলায় আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।এদিকে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচি ঘিরে একাধিক অভিযোগও সামনে এসেছে। মামলাকারীদের দাবি, স্বাস্থ্য শিবিরের নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত যোগ্য অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসক না থাকা সত্ত্বেও আধুনিক চিকিৎসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি, চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আধুনিক মেডিক্যাল সরঞ্জামের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
মামলাকারীদের আরও অভিযোগ, চিকিৎসা পরিষেবায় গাফিলতির পাশাপাশি প্রচারের উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে মানুষ এনে শিবিরে ভিড় বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এসব অভিযোগের জেরে ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির বৈধতা, পরিকাঠামো এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *