Breaking News

জবরদখল উচ্ছেদ ও বেআইনি নির্মাণ ভাঙায় অশান্তির আশঙ্কা! ৬ দফা কড়া নির্দেশিকা জারি লালবাজারের

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-কলকাতায় কোনও নির্মাণ উচ্ছেদ, ভবন সিল করা কিংবা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার সময় যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, তার জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে চাইছে লালবাজার। পুরসভার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কীভাবে এই ধরনের অভিযান চালানো হবে, তা স্পষ্ট করে বুধবার একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ।নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, উচ্ছেদ বা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার মতো অভিযানের ক্ষেত্রে আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে। পুরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশকর্মী মোতায়েন করতে হবে। এর ফলে একদিকে অভিযান দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাবে|

লালবাজারের ৬টি মূল নির্দেশ হল—
১. আগাম তথ্য ও প্রস্তুতি:
কোনও উচ্ছেদ বা নির্মাণ ভাঙার অভিযানে কত সংখ্যক পুলিশকর্মী প্রয়োজন, তা আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট থানা ও ডিসি দফতরকে জানাতে হবে। সেই অনুযায়ী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

২. দ্রুত পদক্ষেপ:
অভিযানকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর অযথা সময় নষ্ট করা যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব নির্ধারিত কাজ শেষ করতে হবে, যাতে ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের ভিড় বা বিরোধীদের জমায়েত হওয়ার সুযোগ কমে।

৩. পুর-পুলিশের মধ্যে সমন্বয়:
অভিযানে থাকা পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকদের নিজেদের দায়িত্ব এবং আইনি ক্ষমতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। অভিযান শুরুর আগে দু’পক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

৪. পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী:
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশকর্মী মোতায়েন রাখতে হবে। কোনও পরিস্থিতিতেই যেন বাহিনীর ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. স্পর্শকাতর এলাকায় আগাম বৈঠক:যে সব এলাকা বিতর্কিত বা স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত, সেখানে অভিযান চালানোর আগে পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকদের মধ্যে যৌথ পর্যালোচনা বৈঠক করতে হবে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আগাম আলোচনা করে পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

৬. সিল করার আগে আইনি প্রস্তুতি:কোনও ভবন বা এলাকা সিল করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি নথি ও প্রাথমিক কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হবে। অভিযানের সময় যাতে নথিপত্র সংক্রান্ত কোনও জটিলতা না তৈরি হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও অভিযানের দিন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত বাহিনী রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এক আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
অভিযানের ক্ষেত্রে মহিলা পুলিশকর্মীর প্রয়োজন হলে পর্যাপ্ত সংখ্যক মহিলা পুলিশও মোতায়েন করতে হবে। অর্থাৎ শুধু উচ্ছেদ বা বেআইনি নির্মাণ ভাঙার আইনি প্রক্রিয়াই নয়, তার আগে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিচার করে পুলিশি প্রস্তুতি এবং পুরসভার সঙ্গে সমন্বয়—এই তিনটি বিষয়কেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে লালবাজার।
নতুন নির্দেশিকায় মূলত আগাম পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাহিনী, দ্রুত অভিযান এবং পুলিশ-পুরসভার সমন্বয়ের মাধ্যমে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *