Breaking News

নিম্নমানের ইট-বালি দিয়ে সরকারি নির্মাণের অভিযোগ! পান্ডুয়ায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাজ বন্ধের নির্দেশ বিজেপি বিধায়কের

প্রসেনজিৎ ধর, হুগলি:-সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠতেই কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেন পান্ডুয়ার বিজেপি বিধায়ক তুষার মজুমদার। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সরকারি অর্থে তৈরি হওয়া ভবনে কোনওভাবেই চার নম্বর ইট কিংবা নিম্নমানের বালি ব্যবহার করা যাবে না।নির্মাণ সামগ্রীর গুণমান নিয়ে কোনও আপস করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।পান্ডুয়া ব্লকের ইটাচুনা-খন্নান গ্রাম পঞ্চায়েতের মাতব্বরপুর গ্রামে একটি নতুন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবন তৈরির কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই নির্মাণ শুরু হয়েছিল। জানা গিয়েছে, হুগলি জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে ওই ভবন তৈরির কাজ চলছে।কিন্তু নির্মাণ শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্যবহৃত ইট ও বালির মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি বিধায়কের নজরে আসার পর বুধবার নির্মীয়মাণ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পরিদর্শনে যান তুষার মজুমদার।নির্মাণস্থলে গিয়ে ভবনের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ব্যবহৃত ইট, বালি-সহ বিভিন্ন সামগ্রীও পরীক্ষা করেন তিনি। পরিদর্শনের পরই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কাজ আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন বিজেপি বিধায়ক।তুষার মজুমদারের বক্তব্য, “চার নম্বর ইট বা নিম্নমানের বালি দিয়ে সরকারি প্রকল্পের কাজ করা যাবে না। মানুষের করের টাকায় এই নির্মাণ হচ্ছে। তাই নির্দিষ্ট মান বজায় রেখেই কাজ করতে হবে।”
বিধায়কের দাবি, সরকারি প্রকল্পে নির্মাণের গুণমান নিয়ে কোনওরকম সমঝোতা করা হবে না। আগের মতো নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি আর বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তিনি জানান, যতদিন পর্যন্ত নির্মাণসামগ্রীর মান পরিবর্তন করা না হচ্ছে, ততদিন ওই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। নির্ধারিত মানের ইট, বালি এবং অন্যান্য সামগ্রী এনে তবেই ফের কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার সংস্থা এবং জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাসও দিয়েছেন বিধায়ক। সরকারি প্রকল্পের কাজে যাতে গুণমান নিয়ে কোনও অনিয়ম না হয়, তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।বিধায়কের এই নির্দেশের পর মাতব্বরপুর এলাকায় বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এখন নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের পর জেলা পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতর কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *