দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- রাজ্যে ফের পুরভোটের তোড়জোড় শুরু। পুজো শেষ হওয়ার পর কলকাতা, হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভা ও পুরনিগমে নির্বাচন হতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণা গুপ্তার সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ভারচুয়াল বৈঠক হয়। বৈঠক থেকেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে পুজোর আগেই নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি গুছিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু ভোটের পরিকাঠামো নয়, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কত পুলিশ বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে, সেই হিসাবও চাওয়া হয়েছে। ছয় জেলার জেলাশাসকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় বাহিনীর সংখ্যা জানতে চেয়েছে কমিশন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ও ডিস্ট্রিক্ট মিউনিসিপ্যাল ইলেকশন অফিসাররা। কমিশন সূত্রে খবর, বুধবারের বৈঠকে পুরভোটের প্রস্তুতির একাধিক দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল পুর এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ, আসন সংরক্ষণ, ভোটার তালিকা, ইভিএমের ব্যবস্থা, ভোটকেন্দ্র চিহ্নিতকরণ এবং ভোটকর্মী নিয়োগ। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাজগুলি শেষ করার জন্য জেলা প্রশাসনগুলিকে কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা নিয়েও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ১ জুলাই প্রকাশিত ভোটার তালিকাকেই পুরভোটের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। সেই তালিকা সংশোধন এবং ভোটকেন্দ্র নির্দিষ্ট করার কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভোটকর্মী চিহ্নিত করার কাজও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।আসন সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারণ করেছে কমিশন। সূত্রের খবর, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সংরক্ষিত আসনের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। সেই তালিকা নিয়ে কোনও আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখার পর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সংরক্ষণ তালিকা প্রকাশের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। তবে ইভিএম নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিধানসভা নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএম দিয়েই পুরভোট হবে, নাকি নতুন ইভিএমের ব্যবস্থা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কতগুলি ইভিএম পাওয়া যাবে, তার উপরই অনেকটা নির্ভর করবে ভোটের পদ্ধতি। পর্যাপ্ত মেশিনের জোগান থাকলে একদিনে ভোট হতে পারে, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক দফাতেও নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়ে বুধবারের বৈঠকে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। রাজ্যের যে সব গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা ও পুরনিগমে নির্বাচন বকেয়া রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, বিধাননগর, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়ি পুরনিগম। এছাড়াও কার্শিয়াং, মিরিক, কালিম্পং, রায়গঞ্জ, বুনিয়াদপুর, ধূপগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন বাকি। তালিকায় রয়েছে বালি, ডোমকল, পুজালি, পাঁশকুড়া, হলদিয়া, কুপার্স ক্যাম্প এবং নলহাটির মতো পুর এলাকাও।
এদিনের বৈঠকে ইভিএমের ফার্স্ট লেভেল চেকিং, স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী পরিকাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কোথায় কীভাবে ইভিএম রাখা হবে এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে কী ধরনের বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তার প্রাথমিক পরিকল্পনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। ফলে পুজোর পর পুরভোটের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি যে শুরু হয়ে গিয়েছে, বুধবারের বৈঠকে তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal