নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতা :- আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসক-পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং হাসপাতালের তৎকালীন দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রথম বৈঠক হল বৃহস্পতিবার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শুভ্রকমল মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই পাঁচ সদস্যের কমিটি তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে।কমিটিতে রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তাপস বসু, জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক তথা অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস রাজেশ কুমার এবং উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা এনএসজির প্রাক্তন কমান্ডো দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। তদন্তের কাজে অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই দুই বিজেপি বিধায়ককে কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর।
আরজি কর হাসপাতালে সন্দীপ ঘোষের আমলে ওঠা একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও তদন্তের আওতায় থাকছে। সেই দুর্নীতির সঙ্গে চিকিৎসক-পড়ুয়ার মৃত্যুর কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। গত ২৯ অগস্ট স্বাস্থ্য-শিক্ষা দফতরের অধিকর্তার তরফে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার এ প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “অভয়ার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনা বাংলার মানুষকে গভীর ভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনার লক্ষ্যে একটা স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভয়ার পরিবার এবং সমগ্র চিকিৎসক সমাজের পাশে আমরা রয়েছি। কোনও আপস ছাড়া দ্রুত ন্যায়বিচার হবে। নিরপেক্ষ বিচার হবে।”এর আগে গত ৯ অগস্ট আরজি করের চিকিৎসক-পড়ুয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মৃতার মা-বাবার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সভায় আরজি করের তদন্ত নিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, বিশেষ কমিটি গঠন করে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার নতুন করে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করবেন।
তার এক দিন আগে, অর্থাৎ ৮ অগস্ট স্বাস্থ্য দফতরের তরফে পৃথক তদন্তের কথা জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ছিল, স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং তদন্তে যে তথ্য উঠে আসবে, তা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে জানানো হবে। পাশাপাশি নির্যাতিতার শিক্ষকদের সঙ্গেও কথা বলবেন তদন্তকারীরা।
হাসপাতালের পরিকাঠামোগত ত্রুটি ছিল কি না, থাকলে সেই ঘাটতি কী ভাবে তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে কী ভাবে তা পূরণ করা হয়েছে—সেই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আরজি কর-কাণ্ডের তদন্ত প্রথমে শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশ। তারাই মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা চার্জশিটে সঞ্জয় রায়কেই একমাত্র অভিযুক্ত হিসাবে উল্লেখ করে। পরবর্তীতে শিয়ালদহ আদালতে সঞ্জয় রায় দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।এবার স্বাস্থ্য দফতরের গঠিত নতুন কমিটির তদন্তে আরজি করের দুর্নীতি ও চিকিৎসক-পড়ুয়ার মৃত্যুর মধ্যে কোনও যোগসূত্র উঠে আসে কি না, সে দিকেই নজর রয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal