প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার ফের উত্তপ্ত হল ক্যাম্পাস চত্বর। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে ‘হরিপদ ভারতী স্মৃতিরক্ষা সমিতি’র উদ্যোগে জাতীয়তাবাদী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তার আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘বন্দে মাতরম’ যাত্রা করে এবিভিপি। অন্যদিকে, এর পাল্টা মিছিলের আয়োজন করে এসএফআই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে রাজা সুবোধ মল্লিক রোডে মিছিল করে বাম ছাত্র সংগঠনটি। দুই মিছিলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের পাশাপাশি অধ্যাপক এবং শিক্ষাকর্মীদের একাংশের উপস্থিতি দেখা যায়। কর্মসূচিকে ঘিরে দুই সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। একে অপরের বিরুদ্ধে সরব হন এবিভিপি ও এসএফআইয়ের সদস্যরা।
আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘বন্দে মাতরম’ যাত্রার ঘোষণা করেছিল এবিভিপি। সেই কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মিছিল করেন সংগঠনের কর্মীরা। ক্যাম্পাসে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনও কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও বার্তা দেওয়া হয়।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেওয়ালে থাকা বিতর্কিত স্লোগানের পাল্টা হিসেবে দেশের বিশিষ্ট মনীষীদের ছবি লাগান এবিভিপি কর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটেও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি লাগানো হয়। পাশাপাশি সংবিধানের অলঙ্করণে ব্যবহৃত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা ছবিও ক্যাম্পাসের দেওয়ালে প্রদর্শন করা হয়। মিছিল চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শোনা যায় ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান।সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘিরে গত দু’সপ্তাহ ধরে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। সেই আবহেই বৃহস্পতিবারের এই কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এবিভিপির বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ চলতে দেওয়া হবে না এবং ক্যাম্পাসে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে।এর আগে গত সপ্তাহেই যাদবপুরে ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। সেই কর্মসূচিতেও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ফের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘বন্দে মাতরম’ যাত্রা করল এবিভিপি। এরপরই ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
এ দিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল লিখন নিয়েও মন্তব্য করেছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “দেওয়ালে লিখলে নাম, সে নাম মুছে যাবে। হৃদয়ে লেখো নাম, সে নাম রয়ে যাবে। যাদবপুরের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বলব, বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি ও আবহাওয়া বুঝে বাংলার মানুষের মনে নাম লিখুন।”
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal