Breaking News

জোড়া উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা ঋতব্রত শিবিরের! নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে মমতার প্রার্থীদের মুখোমুখি কারা, জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে এখনও জটিলতা

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :- নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—রাজ্যের এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ঘোষণা করে দিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। নন্দীগ্রামে তাঁদের প্রার্থী মহম্মদ এতেশামুল হক। অন্যদিকে, রেজিনগর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে সফিউদ্দিন শেখকে।তবে প্রার্থী ঘোষণা হলেও প্রতীক নিয়ে জটিলতা এখনও কাটেনি। জোড়াফুল প্রতীক কারা ব্যবহার করতে পারবেন, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে রয়েছে। ইতিমধ্যেই কালীঘাট এবং ঋতব্রত—দুই শিবিরের সঙ্গেই বৈঠক করেছে কমিশন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই উপনির্বাচনের জন্য নিজেদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দিয়েছে দুই পক্ষ।কালীঘাট তৃণমূলের তরফে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে সঞ্চিতা প্রধান (দে)-কে। রেজিনগরে দলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী।নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ হবে। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ সেপ্টেম্বর। শুভেন্দু অধিকারী এবং হুমায়ুন কবীর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কারণেই এই দুই আসনে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।নন্দীগ্রাম আসনটি বাম জোটের শরিককে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিআইএম। জোটের সমঝোতা অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে সিপিআই-এর প্রার্থী হিসেবে লড়বেন শান্তিগোপাল গিরি। পাশাপাশি কংগ্রেসের তরফে নন্দীগ্রামে মিলন প্রধানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
রেজিনগরেও প্রার্থী দিয়েছে বামফ্রন্ট। হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া এই আসনে সিপিআইএমের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন বিশিষ্ট আইনজীবী সৈয়দ।এরই মধ্যে প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতা আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ঋতব্রত শিবিরের তরফে জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আরও কিছু বলার বা অতিরিক্ত কোনও নথি জমা দেওয়ার আছে কি না, তা বুধবারের মধ্যে জানাতে বলেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য বা নতুন কোনও নথি কমিশনে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে সেই নথির একটি প্রতিলিপি ঋতব্রত শিবিরকেও দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, ১৬ সেপ্টেম্বরই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। কমিশন জানিয়েছে, জমা পড়া নথি খতিয়ে দেখার পর প্রয়োজন মনে হলে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টেয় দিল্লির নির্বাচন সদনে বিশেষ শুনানি হতে পারে। সেই শুনানির পরেই জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।যদিও কমিশনের এই চিঠি এবং নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে কালীঘাট শিবিরে বিশেষ উদ্বেগ নেই। নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে উপস্থিত থাকা সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, কমিশন এখনও কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়নি। ফলে প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিজেদের অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী কালীঘাট শিবির।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *