নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা :- আসন্ন কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা। এনসিপিআই সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় পুরভোটে প্রার্থী হলে তাঁর হয়ে প্রচারে নামবেন বলে জানিয়েছেন রাজ্য সরকারের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। সুদীপের বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় তাপসের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা। এর মধ্যেই এনসিপিআই-এর আর এক সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়ার দাবি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দুর্গাপুজোর আগে অথবা পরে দলের ১৭ জন সাংসদ আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। সম্ভাব্য সেই তালিকায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে বলে দাবি তাঁর। এমন আবহেই কলকাতা পুরভোটে সুদীপকে নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শিল্পমন্ত্রী।যদিও সুদীপকে আক্রমণ করেই মন্তব্য করেছেন তাপস রায়। তাঁর দাবি, এলাকায় সুদীপের গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং তিনি পুরভোটে প্রার্থী হলে জেতা কঠিন। তাপসের কথায়, সাধারণ মানুষের ভোটে সুদীপের জয়ের সম্ভাবনা নেই। একইসঙ্গে তিনি সুদীপকে তাঁর পুরনো ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই প্রার্থী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। দল চাইলে সুদীপের হয়ে ব্যক্তিগত ভাবে প্রচারে নামা এবং পদযাত্রা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
তবে সুদীপকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপড়েন শুধু তাপস রায়ের মন্তব্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কলকাতা পুরভোটে বিজেপির সঙ্গে এনসিপিআই জোট বেঁধে লড়বে কি না, তা নিয়েও দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে।কলকাতা পুরসভা নির্বাচন পরিচালনার জন্য রাজ্য বিজেপির তরফে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সেই কমিটির ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, পুরভোটে বিজেপি একাই লড়াই করতে পারে। কোনও শরিক দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার পথে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই তাঁর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলেছে। অন্যদিকে, বিজেপির এই অবস্থানের সঙ্গে একেবারেই সুর মেলাননি এনসিপিআই-এর লোকসভা দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এনসিপিআই ইতিমধ্যেই এনডিএ-র শরিক হিসেবে রয়েছে এবং জোটবদ্ধ ভাবেই কলকাতা পুরভোটে লড়াই করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।সুদীপের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও এই বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর কথা হয়েছে। সেই আলোচনায় শরিক দল হিসেবে একসঙ্গে নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্তের কথাই জানানো হয়েছে। ফলে কলকাতা পুরভোটের আগে বিজেপি-এনসিপিআই সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন পথে যায়, তা নিয়েই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal