প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এর অডিটোরিয়াম ভাড়া নেওয়া এবং একটি আরএসএস-ঘনিষ্ঠ সংগঠনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে কোনও ধরনের হিংসা কাম্য নয় বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। একইসঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দ বা ভারতমাতার ছবির অবমাননার অভিযোগ সামনে আসায় দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের বার্তাও দিয়েছেন মন্ত্রী।সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জগন্নাথ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশে কোনও ধরনের হিংসা বা বিশৃঙ্খলার জায়গা নেই। তাঁর বক্তব্য, সংঘাতের পরিস্থিতিতে স্বামী বিবেকানন্দ এবং ভারতমাতার ছবিতে আঘাত বা অবমাননার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ধরনের ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর কথায়, “কোনও রকম গন্ডগোলের মধ্যে যদি স্বামী বিবেকানন্দের ছবি বা ভারতমাতার ছবিতে লাথি পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে এক ভয়ঙ্কর ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই বিকৃত সংস্কৃতি আমরা বদলাবই। এই ধরনের অপসংস্কৃতি একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না।”
রবিবার SRFTI-এর অডিটোরিয়ামে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই ক্যাম্পাসে বাইরের ওই সংগঠনকে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই বিষয়েই আপত্তি জানিয়ে তাঁরা অনুষ্ঠানের জায়গায় পৌঁছন। অন্যদিকে আয়োজকদের অভিযোগ, পড়ুয়ারা অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে কর্মসূচিতে বাধা দেন এবং পোস্টার-ব্যানার সরিয়ে দেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দু’পক্ষের তরফেই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ সামনে আসে। পড়ুয়াদের একাংশের আরও অভিযোগ, তাঁদের ‘জঙ্গি’ এবং ‘বাংলাদেশি’ বলে কটাক্ষ করা হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। অন্যদিকে আয়োজকদের তরফে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধেও অনুষ্ঠান ভন্ডুল এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ তোলা হয়েছে। ফলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার পর সোমবার সকাল থেকেই SRFTI চত্বরে প্রতিবাদে সরব হন পড়ুয়াদের একাংশ। প্রতিষ্ঠানের ভিতরে একের পর এক হাতে লেখা পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো হয়। তাঁদের মূল ক্ষোভ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। পড়ুয়াদের প্রশ্ন, ছাত্রছাত্রীদের অন্ধকারে রেখে কোন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অডিটোরিয়াম বাইরের একটি সংগঠনকে অনুষ্ঠানের জন্য দেওয়া হল? বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এই ধরনের রাজনৈতিক বা সংগঠনভিত্তিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। অডিটোরিয়াম ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন এবং কীভাবে ওই অনুমতি দেওয়া হল, তা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চান তাঁরা। গোটা ঘটনায় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।
অন্যদিকে, মন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। SRFTI-এর মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। ঘটনার তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসার অপেক্ষায় এখন সংশ্লিষ্ট মহল।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal