প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-অন্যের নথি জাল করে তাঁদের নামে সিমকার্ড তোলার অভিযোগ। সেই সিম ব্যবহার করেই চলত প্রতারণার কারবার। নারকেলডাঙা থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে নেমে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও সাত জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সল্টলেকের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানার বাসিন্দা ওই সাত জনকে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেকের ওই বাড়িটিকেই কার্যত কল সেন্টারে পরিণত করেছিলেন অভিযুক্তেরা। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কয়েকটি স্মার্টফোন ও কিপ্যাড ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে ফোনগুলিতে আলাদা আলাদা সিমকার্ড ব্যবহার করে প্রতারণা চালানো হত। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, ‘তৌসিফ টেলিকম’-সহ বিভিন্ন সংস্থার নাম ব্যবহার করে অভিযুক্তেরা প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিলেন। চলতি মাসের ১৭ তারিখ নারকেলডাঙার বাসিন্দা তৌসিফ আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তদন্তকারীরা চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়ে তথ্য পান। পরবর্তী সময়ে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। এবার তদন্তের সূত্র ধরে আরও সাত জন পুলিশের হাতে ধরা পড়ল।
নারকেলডাঙা থানার সাব-ইনস্পেক্টর মহম্মদ আব্বাসউদ্দিন বিশ্বাসের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয় বলে পুলিশ সূত্রের খবর। সাইবার সেলের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নানা কৌশলে তাঁদের পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি সংগ্রহ করা হত। এরপর সেই নথি জাল করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজান্তে তাঁদের নামে সিমকার্ড তোলা হত বলে অভিযোগ। ধৃত সাত জনই অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে দাবি, সুন্দর নামে এক যুবক তাঁদের এ রাজ্যে নিয়ে এসেছিলেন। সল্টলেকের ওই বাড়িতে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখান থেকেই চলত কথিত প্রতারণার কর্মকাণ্ড।
তদন্তকারীদের দাবি, মূলত ঋণ দেওয়ার সংস্থার পরিচয় দিয়ে ফোন করতেন অভিযুক্তেরা। বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হত। পরে নানা কৌশলে তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করে ব্যাঙ্কের তথ্য বা টাকা হাতিয়ে নেওয়া হত বলে অভিযোগ। এইভাবে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। সাইবার প্রতারণার অভিযোগে গত কয়েক বছর ধরেই পুলিশের নজরে রয়েছে সল্টলেক ও সেক্টর ফাইভের একাধিক বেআইনি কল সেন্টার। দেশ-বিদেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে সেখান থেকে প্রতারণার অভিযোগও সামনে এসেছে। ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের টার্গেট করে চলা বিভিন্ন চক্রের বিরুদ্ধে তদন্তে রাজ্য পুলিশের কাছে অভিযোগ এসেছে বলেও সূত্রের খবর। বেআইনি কল সেন্টারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যেই এবার নতুন এই প্রতারণা চক্রের হদিস পেল পুলিশ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal