প্রসেনজিৎ ধর :- শ্রীরামপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের উপর। হামলায় তাঁর গাড়ির সামনের উইন্ডস্ক্রিন-সহ একাধিক কাচ ভেঙে যায়। অভিযোগ, ইট, ডিম ছোড়ার পাশাপাশি শাবল ও রড দিয়ে গাড়িতে হামলা চালানো হয়। কুণালের দাবি, তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে বার করারও চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনায় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। হামলার পর ভাঙাচোরা গাড়ি নিয়েই কলকাতার দিকে রওনা দেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার পর পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চন্দননগর কমিশনারেটের তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ইতিমধ্যেই ইমেলের মাধ্যমে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে এবং উত্তরপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানান কুণাল। এরপরই ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি নিয়ে ভবানী ভবনে পৌঁছন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল, রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে গিয়ে আধিকারিকদের গাড়িটি দেখানো এবং ঘটনার বিষয়ে কথা বলা। কিন্তু অভিযোগ, ভবানী ভবনের গেটেই তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। প্রথমে গাড়ি নিয়ে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পরে গাড়ি থেকে নেমে একা ঢোকার চেষ্টা করলেও তাঁকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভবানী ভবনের গেটের সামনে কুণাল ও পুলিশের আধিকারিকদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পুলিশকর্মীদের বলতে শোনা যায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁর প্রবেশের কোনও নির্দেশ আসেনি। পাল্টা কুণালের প্রশ্ন, হামলার শিকার হওয়ার পর অভিযোগ জানাতেই যদি পুলিশ সদর দফতরে ঢুকতে না দেওয়া হয়, তাহলে তিনি কোথায় যাবেন? কুণালের বক্তব্য,আমি তো গাড়ি দেখাতে এসেছি, নেমন্তন্ন খেতে আসিনি। তাঁর অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল না। পাথর, ডিম, শাবল নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনাটিকে সরাসরি খুনের চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেতা। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাকে কেন্দ্র করে পুলিশি ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, রাস্তা আটকে দেওয়া থেকে শুরু করে নাকা চেকিং—তৃণমূল নেতা-কর্মীদের গাড়ি বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই সমস্ত ঘটনার মাধ্যমে সভায় যাওয়ার পথে বাধা তৈরি করা হচ্ছে।
ভবানী ভবনে ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হন কুণাল। তাঁর প্রশ্ন, একজন বিধায়ক যদি নিজের উপর হওয়া হামলার অভিযোগ নিয়ে পুলিশের সদর দফতরে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না পান, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় অভিযোগ জানাবেন? তাঁর দাবি, চালক দ্রুত গাড়ি সরিয়ে না আনলে হামলার সময় আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal