Breaking News

‘ভ্যানিশ কুমারকে ধরেছি, কেউ পার পাবে না’, জ্ঞানেশকে নিশানা করে শ্রীরামপুর থেকে মমতার হুঙ্কার, ‘আন্দোলন চলবে’

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনকে ঘিরে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কমিশনের তথ্য সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা আধিকারিক সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সময় তাদের অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি বলে দাবি তৃণমূলের। এবার নির্বাচন কমিশনের অন্দরে ওই প্রক্রিয়া নিয়ে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই পুরনো অভিযোগকে সামনে এনে ফের সরব হলেন মমতা।
শনিবার শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানে জনসভা থেকে সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ‘‘ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরেছি, তেমন অন্যায়কারীদের ধরব। ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো। যতদিন না যাবে, আমাদের আন্দোলন চলবে।’’
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের সময় রাজ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি, প্রায় ৯৩ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তিনি বলেন, ‘‘বাংলা দখল করবে বলে এই কাজ করা হয়েছিল। আমরাই প্রথম বলেছিলাম, ওই আধিকারিক সীমা খান্নার ভূমিকা সন্দেহজনক।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, বিজেপির লোকজন বস্তায় করে ছয় নম্বর ফর্ম জমা দিয়েছিল এবং সেই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারকে কেন ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলা হচ্ছে, তার ব্যাখ্যাও দেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে একের পর এক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ওরা বাংলা দখল করেছে, আমরা দিল্লি দখল করব।’’ এদিনের সভা থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘পুলিশ আমার শত্রু নয়। মানুষকে রক্ষা করা তাদের কাজ। কিন্তু আজ কী করছেন? আমার সভায় যাতে কেউ আসতে না পারেন, তার জন্য গতকাল রাতে শ্রীরামপুরের বাড়ি বাড়ি থেকে তৃণমূল সমর্থকদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করেছে।’’ বহু টানাপড়েনের পর কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতে শনিবার শ্রীরামপুরের কোর্ট ময়দানে সভা করে তৃণমূল। দলীয় প্রতীক সংক্রান্ত বিতর্কের পর এটিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশ। সভা থেকে ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং পুলিশি পদক্ষেপ—একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্র ও কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *