প্রসেনজিৎ ধর,কলকাতা :- দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত করল পুলিশ। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারের পর এ বার তদন্তকারীদের নজরে তাঁর মেয়ে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে লালবাজারে তলব করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর নামে থাকা দু’টি সংস্থায় আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। সেই লেনদেনের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান তদন্তকারীরা।
দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে ঘিরে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এই মামলায় আগেই ইন্দ্রনীলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে তাঁর স্ত্রী মধুছন্দাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। এ বার তদন্তের পরিধিতে যুক্ত হল তাঁদের কন্যার নামও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ২টোয় তাঁকে লালবাজারে হাজির হতে বলা হয়েছে। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হওয়া লেনদেন এবং নিজের নামে থাকা দু’টি সংস্থার আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হতে পারে।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই সেন দম্পতির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পুলিশের নজরে এসেছে। অভিযোগ, তাঁদের মেয়ের অ্যাকাউন্টেও আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সেই লেনদেনের সঙ্গে পুজোর পাস বিক্রি সংক্রান্ত অভিযোগের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা। লালবাজার সূত্রে খবর, এফআইআরে নাম থাকা অন্য অভিযুক্তদেরও পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে।এর আগে শনিবার এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালবাজারে তলব করা হয়েছিল মধুছন্দাকে। তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বামী ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে তাঁর মতানৈক্যের কথা জানান তিনি। ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন মধুছন্দা। ওই মামলায় আদালতের রক্ষাকবচ থাকায় আপাতত তাঁকে গ্রেফতার করতে পারবে না পুলিশ বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার কথাও। মধুছন্দা এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংস্থাটি তৈরি হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। অভিযোগ, এই সংস্থার মাধ্যমে পুজোর পাস বিক্রিতে অনিয়ম করা হয়েছে। প্রচারের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দাবি করা হয়েছিল, সংস্থাটির সঙ্গে ইউনেস্কোর সরাসরি যোগ রয়েছে কিংবা পাস বিক্রির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির অনুমোদন রয়েছে। যদিও অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনেস্কোর সঙ্গে এমন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি ছিল না।
পুজোর পাস বিক্রির অভিযোগে দায়ের হওয়া এই মামলায় আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ইন্দ্রনীল সেনের পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি এফআইআরে নাম থাকা বাকি অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal