Breaking News

বিধানসভার শৌচাগারে রহস্যমৃত্যু! ক্যান্টিনকর্মীর দেহ উদ্ধার, তদন্তে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-বিধানসভার ভিতর থেকে উদ্ধার হল এক ক্যান্টিন কর্মীর দেহ। সোমবার সকালে বিধানসভার শৌচালয়ের মেঝেতে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় উমেশচন্দ্র দাসকে। তাঁর বয়স প্রায় ৬২ বছর। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ঘটনার তদন্তে নেমেছে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ শৌচালয়ে গিয়েছিলেন উমেশ। দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও তিনি বাইরে না আসায় সন্দেহ হয় সহকর্মীদের। শৌচালয়ের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় তাঁকে ডাকাডাকি করেন অন্য কর্মীরা। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন তাঁরা। তখনই মেঝেতে উমেশকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।জানা গিয়েছে, উমেশচন্দ্র দাসের বাড়ি কলকাতার তিলজলায়। বিধানসভার ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একটি ঠিকাদার সংস্থার অধীনে কাজ করতেন তিনি। রাতে বিধানসভার ক্যান্টিনেই ঘুমোতেন বলে খবর। সোমবার সকালে শৌচালয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ তাঁর কোনও খোঁজ না মেলায় সহকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই সামনে আসে মৃত্যুর ঘটনা।
ঘটনার কথা জানার পর বিধানসভার সচিব ও মার্শালকে বিষয়টি জানান কর্মীরা। খবর দেওয়া হয় হেয়ার স্ট্রিট থানাতেও। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পাশাপাশি, ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছেন আধিকারিকরা। বিষয়টি বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকেও জানানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে উমেশের। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। সোমবারই দেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। সেই রিপোর্ট সামনে এলেই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।বিধানসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ভিতরে এই মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *