Breaking News

১০০ শতাংশ সুদ-জরিমানা মকুবেও মিলছে না সাড়া! কলকাতার প্রায় ৪ লক্ষ নাগরিকের সম্পত্তি কর বকেয়া

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-বকেয়া সম্পত্তি কর আদায়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। ১০০ শতাংশ সুদ ও জরিমানা মকুবের সুযোগ দিয়ে ‘ওয়েভার স্কিম’ চালু করা হলেও তাতে এখনও পর্যন্ত আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। গত তিন সপ্তাহে মাত্র পাঁচশোর মতো করদাতা এই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। ফলে নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে এবার সরাসরি নাগরিকদের বাড়িতে পৌঁছনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর প্রশাসন। সম্পত্তি কর আদায়ে বাড়ি বাড়ি যাবেন পুরকর্মীরা।কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে শহরে ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ২৮৮ জন করদাতার সম্পত্তি কর বকেয়া রয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে মোট ৭৮৪ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। কিন্তু প্রায় চার লক্ষ করদাতার বকেয়া থাকা সত্ত্বেও সুদ ও জরিমানা সম্পূর্ণ মকুবের সুযোগে কেন তেমন সাড়া মিলছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকা এবং দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ওয়ার্ড অফিস থেকে প্রত্যাশিত পুরপরিষেবা না পাওয়ার কারণেই কি নাগরিকদের একাংশ পুর প্রশাসনের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন? এমন প্রশ্নও উঠছে।যদিও পুরসভার অ্যাসেসমেন্ট দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কর বকেয়া রয়েছে, সেই সমস্ত বেসরকারি ও অবাণিজ্যিক করদাতাকে ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো হচ্ছে। নভেম্বরের মধ্যে কর জমা না পড়লে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সংশ্লিষ্টদের বাড়িতে পৌঁছবেন পুরসভার অ্যাসেসমেন্ট সুপারভাইজার এবং ট্যাক্স কালেক্টররা। সোমবার পুরসভার ট্রেজারি বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বাড়িতে গিয়ে করদাতাদের অনলাইনে কর জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করবেন পুরকর্মীরা।
কোনও নাগরিক অনলাইনে কর দিতে চাইলেও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তা করতে না পারলে তাঁকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করা হবে। এমনকী, প্রয়োজনে সরকারি ল্যাপটপ নিয়ে গিয়ে পুরসভার পোর্টাল খুলে কর জমার পদ্ধতি দেখানো হবে। কিউআর কোড স্ক্যান করে কত টাকা জমা দিতে হবে, তাও বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে নাগরিকরা সহজেই ওয়েভার স্কিমের সুবিধা নিতে পারবেন। পুরসভার দাবি, কলকাতায় সম্পত্তি কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এমন পরিষেবা দেওয়ার উদ্যোগ এই প্রথম।উল্লেখ্য, পুরভোটের আগে শহরবাসীকে বাড়তি সুবিধা দিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে এই ওয়েভার স্কিম চালু করেছিল কলকাতা পুরসভা। কিন্তু ১০০ শতাংশ সুদ ও জরিমানা মকুবের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিন সপ্তাহে মাত্র পাঁচশোর মতো করদাতার সাড়া মেলায় পুর প্রশাসনের অন্দরেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুরকর্তাদের একাংশের যুক্তি, পুজোর ছুটি এবং উৎসবের ব্যস্ততার কারণে নাগরিকরা এই সুযোগ নিতে পারেননি। তবে সেই যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ, অনলাইনে কর জমার ব্যবস্থা এবং পুরসভার পোর্টাল ও সোশাল মিডিয়া সচল ছিল। তা সত্ত্বেও কেন প্রচার নাগরিকদের কাছে পৌঁছল না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন এবং সোশাল মিডিয়ায় প্রচার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে পুরসভার।
এদিকে, পুরসভার হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার করদাতার কাছে সম্পত্তি কর বাবদ মোট ৬,৮৫৪.২৯ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর পাশাপাশি ৪০১.৩৮ কোটি টাকা জরিমানা এবং ৩,৩১৪.১৩ কোটি টাকা সুদও অনাদায়ী। এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া আদায় করতেই এবার বাড়ি বাড়ি পৌঁছে কর সংগ্রহের পথে হাঁটছে কলকাতা পুরসভা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *