Breaking News

চোরবাগান বিপর্যয়ের শিক্ষা, জগদ্ধাত্রী পুজোয় চন্দননগরে নিরাপত্তা থেকে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি!

প্রসেনজিৎ ধর,হুগলি:-আলোর শহর চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই উৎসবের আনন্দে মাতবে সাবেকি ফরাসডাঙা। সুউচ্চ জগদ্ধাত্রী প্রতিমা এবং চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা দেখতে প্রতি বছরই লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয় এই শহরে। ফলে উৎসবের দিনগুলিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আগেভাগেই নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রস্তুতি শুরু করল প্রশাসন।
মঙ্গলবার চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত বিশেষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে পুজোর আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন তাঁরা। বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব সৌমিত্রমোহন-সহ জেলার প্রশাসনিক কর্তারা।বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, অতীতের কিছু ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার আগাম সতর্কতা অবলম্বন করছে পুলিশ ও প্রশাসন। বিশেষ করে চোরবাগানের ঘটনা মাথায় রেখে সমস্ত ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। হঠাৎ বৃষ্টি, ঝড় কিংবা অন্য কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিলে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি চন্দননগরের বিশ্বখ্যাত আলোকশিল্পকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, চন্দননগরের আলোকসজ্জার খ্যাতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে হবে। ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়ার সময় যে ধরনের লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো হয়েছে, সেই ধরনের আয়োজনের জন্য চন্দননগরের আলোকশিল্পীদেরও তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, চন্দননগর ও কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো অত্যন্ত বড় আকারে আয়োজিত হয়। এর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কালীপুজো, ছটপুজো এবং কার্তিক পুজোতেও বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। তাই সব উৎসবকে কেন্দ্র করেই সতর্ক রয়েছে রাজ্য সরকার।
অন্যদিকে, চন্দননগরের আলোকশিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে আগের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে চন্দননগরের শিল্পীরা যথাযথ সহযোগিতা পাননি। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, এতদিন শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে শিল্পীদের উন্নয়নে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ বার চন্দননগরের দক্ষ আলোকশিল্পীদের কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে। যে সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তাদের চন্দননগরের শিল্পীদের দিয়েই কাজ করানোর কথা বলা হবে।
প্রশাসনিক বৈঠকে শহরকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার একাধিক পরিকল্পনাও গৃহীত হয়েছে। গঙ্গার পাড়ের ঘাটগুলি আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হবে। পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবি নিয়ে বিশেষ গ্যালারি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ফরাসি আমলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলিকেও নতুন করে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে এ বারের জগদ্ধাত্রী পুজোয় নিরাপত্তা, সৌন্দর্যায়ন এবং চন্দননগরের আলোকশিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে তৎপর প্রশাসন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *