Breaking News

নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের ‘রক্তাক্ত’ ইতিহাস থেকে শিক্ষা, নয়া জমি নীতি ঘোষণা! বাম-তৃণমূলকে একযোগে নিশানা শুভেন্দুর

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-পালাবদলের পর রাজ্যে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করল সরকার। বাংলায় শিল্পের পরিবেশ ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ টানাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘কথা কম, কাজ বেশি’ মন্ত্রকে সামনে রেখেই শিল্পক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখানোর উদ্যোগ। কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপর বিশেষ জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটরাজ বন্ধ হওয়ায় রাজ্যে শিল্প স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাহাড় থেকে সাগর, বাংলার প্রতিটি জেলাই সম্ভাবনার এক একটি ভাণ্ডার। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েই রাজ্যকে শিল্পের অন্যতম গন্তব্য করে তোলার পরিকল্পনা সরকারের।
নয়া শিল্পনীতিতে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনওভাবেই যাতে জমি অধিগ্রহণ শিল্পের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, জমিদাতাদের মতামত ও সম্মানকে অগ্রাধিকার দেবে সরকার। জোর করে জমি নেওয়া হবে না, বরং আলোচনার মাধ্যমেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরের অতীতের ঘটনাকে সামনে রেখে বাম ও তৃণমূল—দুই শিবিরকেই নিশানা করেছেন শুভেন্দু।২০০৭ সালে বাম আমলে নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন সরকারের জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতিতে একাধিক সমস্যা ছিল। জমি অধিগ্রহণের যথাযথ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলেই নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। অন্যদিকে, ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার শিল্পের জন্য অধিগৃহীত জমি ঘিরে আন্দোলনের পথে হাঁটে। এর ফলে রাজ্যে শিল্পনীতি ও জমি নীতি দুটোই ধাক্কা খেয়েছে বলে অভিযোগ শুভেন্দুর।
নয়া জমি নীতি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন মেনেই জমিদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। জমি কেড়ে নেওয়ার বদলে সম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাটের জমি অধিগ্রহণ নীতিও খতিয়ে দেখেছে রাজ্য। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরাসরি জমির মালিকদের সঙ্গে কথা বলবে সরকার। প্রয়োজনে ইচ্ছুক জমিদাতাদের বাজারদরের থেকেও বেশি দাম দেওয়া হবে।
পাশাপাশি ভবিষ্যতের শিল্পায়নের কথা মাথায় রেখে জমি কিনে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই নাবার্ড ও আইডিবিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সব মিলিয়ে নতুন শিল্পনীতি, জমি অধিগ্রহণে আলোচনার পথ এবং ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরির পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে চাইছে সরকার।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *