প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-খড়্গপুর স্টেশনে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করল জিআরপি। এক-দু’টি নয়, ব্যাগভর্তি ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল! সব মিলিয়ে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। ঝাড়খণ্ডের টাটানগর থেকে হাওড়াগামী এক যাত্রীর কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় রাহুল সোনি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
খড়্গপুর জিআরপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে জনশতাব্দী এক্সপ্রেসে টাটানগর থেকে হাওড়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন রাহুল। ট্রেনটি খড়্গপুর স্টেশনে পৌঁছতেই সাত নম্বর প্ল্যাটফর্মে তাঁর আচরণ দেখে সন্দেহ হয় কর্তব্যরত জিআরপি কর্মীদের। ওই যাত্রীর পিঠে একটি এবং হাতে দু’টি ব্যাগ ছিল। পুলিশকর্মীরা তাঁর কাছে এগিয়ে যেতেই সেখান থেকে সরে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে শেষরক্ষা হয়নি। জিআরপি কর্মীরা তাঁকে আটক করেন।
এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই একাধিক প্রশ্নের অসংলগ্ন উত্তর দিতে থাকেন রাহুল। তাতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগগুলিতে তল্লাশি চালাতেই সামনে আসে আসল ঘটনা। ব্যাগের ভিতরে থরে থরে সাজানো ছিল ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। গণনা করে দেখা যায়, মোট ২৮০ বান্ডিল টাকা রয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা।এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কোথা থেকে এল, তা নিয়ে সন্তোষজনক কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ওই ব্যক্তি। এরপরই তাঁকে আটক করে আয়কর দফতরকে খবর দেয় খড়্গপুর জিআরপি। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এসআরপি খড়্গপুর জয়ন্ত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, টাকার উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতের বাড়ি হাওড়ায়। জেরায় তিনি জানিয়েছেন, টাটানগর থেকে ওই টাকা নিয়ে হাওড়ায় ফিরছিলেন। তবে কার কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা পেয়েছিলেন এবং কী উদ্দেশ্যে তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তদন্তকারীরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
উল্লেখ্য, হাওড়া স্টেশন চত্বরে এর আগেও একাধিকবার বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে। টাকার উৎস সম্পর্কে উপযুক্ত নথি বা ব্যাখ্যা দিতে না পারায় গ্রেফতারও হয়েছেন অনেকে। এবার একই ধরনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল খড়্গপুর স্টেশনেও। এক যাত্রীর ব্যাগ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal