প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হল সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI) ক্যাম্পাস। আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে প্রতিষ্ঠানের দরজা। এই সময়ের মধ্যে পঠন-পাঠন থেকে শুরু করে সমস্ত ধরনের প্রশাসনিক ও অন্যান্য কাজকর্মও স্থগিত থাকবে। হস্টেলে থাকা পড়ুয়াদেরও ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পড়ুয়া ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাতের আবহেই বৃহস্পতিবার নোটিস জারি করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই বহিরাগতদের সঙ্গে পড়ুয়াদের সংঘর্ষ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতির জেরে আগেই ব্যাহত হয়েছিল পঠন-পাঠন। এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়, আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, পড়ুয়াদের আন্দোলন বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের দাবি, উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের জেরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের ভিতরে পড়ুয়াদের সঙ্গে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করার দাবিতে সরব হন শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবিতে ক্লাস বয়কটও শুরু হয়। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর ক্যাম্পাসের বাইরে অন্য একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়ারা।এর আগে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পঠন-পাঠন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। হস্টেলে থাকা পড়ুয়াদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয় মেস পরিষেবাও। অন্যদিকে, বহিষ্কৃত কয়েকজন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে উপাচার্য সন্তোষ আজমেরা এবং অন্যান্য আধিকারিকদের শারীরিক নিগ্রহ, উপাচার্যের কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং ক্যাম্পাসের দেওয়ালে আপত্তিকর গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগ উঠেছে।
সব মিলিয়ে পড়ুয়া ও কর্তৃপক্ষের সংঘাত ক্রমশ তীব্র আকার নিয়েছে। তারই মধ্যে এবার ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গোটা ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal