প্রসেনজিৎ ধর, হুগলি:-উৎসবের মরসুমেই হুগলির পাণ্ডুয়ায় হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইলছোবা দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা নারায়ণ দাসের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালালেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। আচমকা এই অভিযানে এলাকায় ছড়িয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। যদিও ঠিক কোন মামলার সূত্র ধরে এই তল্লাশি, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নারায়ণ দাস একসময় আয়কর দফতরে কর্মরত ছিলেন। কয়েক বছর আগেই তিনি অবসর নিয়েছেন। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে পৌঁছন ইডির আধিকারিকরা। এরপর শুরু হয় তল্লাশি। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, নারায়ণ দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এলাকার মানুষের বিশেষ মেলামেশা ছিল না। বর্তমানে তাঁর ছেলে কল্যাণীতে থাকেন। স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, তিনি নেটওয়ার্ক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিকবার তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে ইডি। কিছুদিন আগেই কলকাতার কয়েকটি জায়গায় হানা দিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। একটি অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি আসানসোলের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়।বুধবারই দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরের কামালগাজি এলাকায় শ্যামল ব্যাপারী নামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও অভিযান চালায় ইডি। তাঁর বিরুদ্ধে হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। গুয়াহাটির একটি মামলার সূত্র ধরে এই তদন্ত চলছে বলে জানা গিয়েছে। তবে পাণ্ডুয়ার নারায়ণ দাসের বাড়িতে তল্লাশির সঙ্গে ওই মামলার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
অন্যদিকে, গত মাসে অবৈধ কয়লা পাচার মামলাতেও বড় পদক্ষেপ করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির সদর দফতর সূত্রে জানানো হয়, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ইসিএল) লিজ় নেওয়া কয়লাখনি থেকে বিপুল পরিমাণ কয়লা পাচারের অভিযোগে ১৩৬.৪৪ কোটি টাকার সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ২০০২ সালের প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর আওতায় এই পদক্ষেপ করা হয়।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, অনুপ মাজি ওরফে লালার নেতৃত্বে একটি বেআইনি কয়লা পাচার চক্র সক্রিয় ছিল। ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা খনি থেকে অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন করে তা বিভিন্ন কারখানায় নগদ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করত বলে অভিযোগ। এই কারবারে স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের সহযোগিতা ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি ইডির।তদন্তে আরও অভিযোগ, অবৈধ কয়লা বিক্রির টাকা কোথা থেকে আসছে এবং কার মালিকানায় রয়েছে, তা আড়াল করতে একাধিক ভুয়ো সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল। অনুপ মাজির আত্মীয়, কর্মচারী এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী গুরুপদ মাজির নামে ওই সংস্থাগুলি পরিচালিত হত বলে ইডির দাবি। কয়লা বিক্রির নগদ অর্থ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে হিসাবের কারসাজি করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হত। এর মাধ্যমে টাকার প্রকৃত উৎস ও মালিকানা গোপন রাখার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।
সব মিলিয়ে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে পরপর ইডির অভিযানে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে পাণ্ডুয়ার নারায়ণ দাসের বাড়িতে ঠিক কোন অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হল, সেই বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal