প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ পাস বিক্রিতে দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত। শনিবার নগর দায়রা আদালতে পেশ করা হলে আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। তবে ইন্দ্রনীল সেনের আবেদনে সাড়া দিয়ে জেলে তাঁকে প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর নিয়মিত ওষুধপত্র দেওয়ার আবেদনও মঞ্জুর করেছে আদালত।এদিন আদালতে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন সরকারি আইনজীবী। তাঁর দাবি, ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২৭ লক্ষ টাকা রয়েছে। শুধু তাই নয়, মোট ২৭টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে প্রায় ১০ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে। এই আর্থিক লেনদেনের পিছনে আরও কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। প্রয়োজনে আগামী দিনে ফের ইন্দ্রনীল সেনকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে আদালতে ইঙ্গিত দেন সরকারি আইনজীবী।উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ পাস বিক্রিতে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই মামলাতেই কয়েক দিন আগে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের গোয়েন্দারা। তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় দু’জনেই দাবি করেছেন, এই আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির বিষয়ে ইন্দ্রনীলই সব জানতেন। এমনকী বাজার থেকে এভাবে টাকা সংগ্রহ করতে তাঁকে নিষেধও করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন স্ত্রী মধুছন্দা।
এরপর শুক্রবার ইন্দ্রনীল সেনকে সঙ্গে নিয়েই তাঁর কসবার বাড়ি এবং চন্দননগরের বাংলোয় তল্লাশি চালায় লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT। তদন্তকারীদের অনুমান, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে পুজোর প্রিভিউ পাস বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা কোথায় এবং কীভাবে সরানো হয়েছে, তার গুরুত্বপূর্ণ নথি থাকতে পারে ওই দুই জায়গায়। সেই সূত্র ধরেই প্রাক্তন মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন নথিপত্রের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযানের সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি হাতে এসেছে তদন্তকারীদের।শনিবার আদালতে সরকারি আইনজীবী জানান, তল্লাশি অভিযান থেকে মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা এবং যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি দফতর থেকে প্রয়োজনীয় নথি পেতে ছুটির কারণে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই পুলিশি হেফাজতের সময় নষ্ট না করে আপাতত ধৃতকে জেল হেফাজতে রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন করেন। তবে তদন্ত এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, এই যুক্তিতে জামিনের বিরোধিতা করেন সরকারি আইনজীবী। শেষ পর্যন্ত আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পাশাপাশি জেলে প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ দেওয়ার আবেদনও মঞ্জুর করা হয়।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal