দেবরীনা মণ্ডল সাহা, :- বুধবার টলিউড সুপারস্টার এবং ঘাটালের তিনবারের তৃণমূল সাংসদ দেব (দীপক অধিকারী) এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দেন। যাদবপুরের কাটজুনগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে দেবের উপস্থিতি নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের। গাড়ি থেকে নেমে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত তাকে ঘিরে ভিড় জমে যায়| নথি পেশের পর বেরিয়ে কমিশনকে মানবিক হওয়ার আর্জি জানালেন দেব। বললেন, “আমাদের লাইনে দাঁড়াতে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু যারা বৃদ্ধ, অসুস্থ তাঁদের লাইনে দাঁড়ানো সমস্যার। কমিশনকে বলব, তাঁদের যদি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা যায়।”জানা গেছে,এনুমারেশন ফর্মে কিছু তথ্যগত ত্রুটি থাকার কারণেই তাঁকে ডাকা হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি শুনানির সময় জমা দেন দেব।
যাদবপুরের কাটজুনগরে অবস্থিত নির্দিষ্ট শুনানি কেন্দ্রে হাজির হন সাংসদ-অভিনেতা। সূত্রের খবর, দেবের পরিবারের আরও তিন সদস্যকেও এই শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। শুনানি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে নিজের অসন্তোষের কথা জানান দেব |এই প্রসঙ্গে দেব বলেন, “এটাই এখন নিউ-নর্মাল। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে যেটা করা দরকার, সেটাই করেছি।” তবে তাঁর বক্তব্যের সুর বদলে যায়, যখন তিনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তোলেন। দেবের অভিযোগ, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের যেভাবে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে, তাতে তাঁরা অকারণে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন এবং চরম অসুবিধার মুখে পড়ছেন। তাঁর মতে, এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের গুরুত্ব দিয়ে ভাবা উচিত।নেতাদের বাক্সংযমের বার্তা দিয়ে সাংসদ জানান, তিনি নিজেই জানেন না ভুল কার। কেন তাঁকে ডাকা হল। তিনি নিয়ম মেনে ফর্ম পূরণ করেছিলেন। তার পর শুনানিতে ডাকা হয়েছে শুনে আইন মেনে হাজিরা দিয়েছেন। কী কী নিয়ে যেতে হবে, খোঁজখবর করে নিয়েছিলেন আগে। তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘‘আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। বলতে চাই না যে, এটা কমিশনের ভুল বা দেবের ভুল। কিন্তু আমি ২০১১ থেকে ভোট দিচ্ছি (পশ্চিমবঙ্গে)। সেগুলো কি ভুল ভোট ছিল? রাজনীতি চলতে থাকবে। কিন্তু আমার চিন্তা প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে। অনেকে আধ ঘণ্টার বেশি দাঁড়াতে পারেন না লাইনে। সেই অবস্থাই নেই তাঁদের। তাঁদের নিয়ে যেন কমিশন একটু ভাবেন।’’বেরিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। বলেন, “দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে যা কর্তব্য সেটাই করলাম। যা যা নথি চেয়েছিল তা দিলাম। তবে আমাকে ডাকার পর থেকে অনেকে ফোন করেছেন। জানিয়েছেন বৃদ্ধ, অসুস্থদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অনেকে ভয় পাচ্ছেন। এসআরএর ক্ষেত্রে আমাদের বয়সের নাগরিকদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু সিনিয়র সিটিজেন অর্থাৎ যাদের ৭০-৮০ উর্ধ্ব বয়স, অসুস্থ তাঁদের রিলিফ দেওয়া প্রয়োজন। তাই কমিশনের কাছে আবেদন যে বিষয়টা একটু ভেবে দেখা হোক। কমিশনের কাছে তাঁর আরও আর্জি, “নির্বাচনটা মানুষের কাছে উৎসব। তাই কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়।” এদিন শুনানির পর এসআইআরের কাজে যুক্ত সকলকে কুর্নিশ জানান দেব। ছবিও তোলেন তাঁদের সঙ্গে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal