দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-চিংড়িঘাটায় মেট্রোর বকেয়া কাজ শেষ করতে সময় বেঁধে দিয়ে নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট । ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই চিংড়িঘাটা মেট্রোর পিলার নির্মাণের কাজ শেষ করতে হবে। এমনই নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ। তার আগেই সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল রাজ্য সরকার। আগামী সপ্তাহে রাজ্যের আবেদনের ভিত্তি শীর্ষ আদালতে দায়ের হওয়া মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু চিংড়িঘাটা মোড়ের একটি ছোট্ট অংশ— মাত্র ৩১৬ বর্গমিটার ঘিরেই আটকে রয়েছে গোটা প্রকল্প। ওই জায়গায় তিনটি পিলার বসানো বাকি। অভিযোগ, কাজের স্বার্থে ইএম বাইপাসে সাময়িক যানবাহন নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কিন্তু সেই ট্রাফিক ব্লকের অনুমতি (এনওসি) রাজ্য দিচ্ছে না বলেই কাজ এগোচ্ছে না। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, বর্ষবরণ ও গঙ্গাসাগর মেলার মতো বড় অনুষ্ঠান চলাকালীন রাতের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে মামলাকারীদের আইনজীবীর দাবি, আগের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা রাজ্য দেয়নি। মাত্র তিন রাতের সুযোগ পেলেই পিলারের কাজ শেষ করা যেত। অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে বলেন, এনওসি দেওয়ার সময় নির্ধারণ প্রশাসনিক বিষয়— আদালত তারিখ বেঁধে দিতে পারে না। এর জবাবে আদালত পর্যবেক্ষণ করে, “ভারত উৎসবের দেশ। উৎসবের অপেক্ষায় থাকলে কোনও উন্নয়নমূলক কাজই এগোবে না।” ২৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টানা দু’টি সপ্তাহান্তে রাতের ট্রাফিক ব্লকের দিন চূড়ান্ত করতে হবে। ৬ জানুয়ারির মধ্যে তা আরভিএনএল ও মেট্রো কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের বেঞ্চ জানিয়েছিল, সব পক্ষ সমন্বয় রেখে জনস্বার্থে কাজ এগিয়ে নিক। কিন্তু বাস্তবে চিংড়িঘাটায় কাজ এখনও থমকে।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal