প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :-প্রয়াত মায়ের চক্ষুদান করানোয় গ্রেফতার হয়েছিলেন সমাজকর্মী আমিরচাঁদ শেখ। তিন দিন জেলে থাকার পর অবশেষে জামিন পেলেন তিনি। আদালতে মুখ পুড়ল কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশের। চক্ষুদানের নথি থাকার পরেও কেন অতি সক্রিয় পুলিশ, সে ব্যাপারে প্রশ্ন করে আদালত। কেন সেই নথি পুলিশ দেখেনি, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অবশেষে আদালতে মান্যতা পায় চক্ষুদানের সেই নথি।আমিরের মা রাবেয়া বিবি প্রয়াত হন গত রবিবার। এরপরেই মায়ের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁর কর্নিয়া। সেই চোখ পেয়ে আলো ফিরে পান দুজন। চক্ষুদানের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হসপিটাল আমিরচাঁদ শেখকে কুর্নিশও জানায়। কিন্তু স্থানীয় মানুষজন অভিযোগ তোলেন, মৃত মায়ের চোখ চুরি করেছেন পুত্র। শুধু তাই নয়, চক্ষুদানের কোনও নথিও নাকি আমির দেখাতে পারেনি বলেও অভিযোগ ওঠে। এরপরেই স্থানীয় থানাতে অভিযোগও দায়ের হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে আমিরচাঁদ শেখ-সহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। যা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। প্রশ্ন ওঠে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। তদন্ত না করেই কীভাবে গ্রেফতার তা নিয়ে সুর চড়ান সমাজকর্মীরা।গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার এই বিষয়ে প্রতিবাদ চলে। দাবি ওঠে, পুলিশের এমন আচরণে আগামী দিন অঙ্গ পতঙ্গ দান করতে গিয়ে ভয় পাবেন মানুষ। বঞ্চিত হবে দৃষ্টিহীন ও অসহায় অসুস্থ মানুষগুলি। যা নিয়ে রীতিমতো চাপ বাড়তে থাকে পুলিশের উপর। এই অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার ধৃত সমাজকর্মী আমিরচাঁদ শেখ-সহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে আদালতে তোলা হয়। শুনানিতে পুলিশের তরফে চক্ষুদানের যাবতীয় নথি পেশ করা হয়। এরপরেই ২০০০ টাকার বন্ডে আমিরচাঁদ-সহ পরিবারের সকল সদস্যের জামিন পান।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal