Breaking News

ছাব্বিশের ভোটে সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর, মমতা-শুভেন্দুর মেগা ডুয়েলে চোখ সবার!

প্রসেনজিৎ ধর, কলকাতা :- ভবানীপুরে জমতে চলেছে হাইভোল্টেজ লড়াই। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী—পাঁচ বছর পর ফের মুখোমুখি দুই হেভিওয়েট। একুশে নন্দীগ্রামে যে ডুয়েল দেখেছিল বাংলা, ছাব্বিশে তারই রিপিট হতে চলেছে ভবানীপুরে।
মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই স্পষ্ট, এই কেন্দ্রেই হতে চলেছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লড়াই। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে অল্প ব্যবধানে মমতাকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেই জয়কে সামনে রেখে গত কয়েক বছর ধরেই তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
এবার বদলেছে মঞ্চ। মমতার শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন শুভেন্দু, আর সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। ফলে এই কেন্দ্র এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
ভোটের অঙ্ক বলছে, ভবানীপুরে মোট ভোটের বড় অংশই হিন্দু ভোটার—প্রায় ৭৬ শতাংশ। বাঙালি হিন্দু, অবাঙালি হিন্দু ও হিন্দিভাষী ভোটার মিলিয়েই এই অঙ্ক। মুসলিম ভোটার প্রায় ২৪ শতাংশ। ফলে মেরুকরণ হলে হিন্দু ভোট কতটা একজোট হয়, সেটাই বড় প্রশ্ন।
ওয়ার্ডভিত্তিক হিসেবেও ছবিটা গুরুত্বপূর্ণ। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে অবাঙালি ভোটার প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি—যেখানে বিজেপির প্রভাব বরাবরই শক্ত। ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে হিন্দিভাষী ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যা বিজেপির টার্গেট হতে পারে। আবার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবাঙালি ভোটার প্রায় অর্ধেক, যেখানে অতীতে একাধিকবার বিজেপি লিড পেয়েছে।
অন্যদিকে ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটাররা বেশ খামখেয়ালি—কখনও বিজেপি, কখনও তৃণমূলের দিকে ঝুঁকেছে। ফলে এই ধরনের ওয়ার্ডগুলোই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
ইতিমধ্যেই ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াররুম গড়ে ভোট ম্যানেজমেন্টে জোর দিয়েছেন শুভেন্দু। অন্যদিকে তৃণমূলও নিজেদের শক্ত সংগঠন ও বাঙালি-মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের উপর ভরসা রাখছে।
সব মিলিয়ে, অঙ্কের লড়াই যেমন জটিল, তেমনই রাজনৈতিক লড়াইও হতে চলেছে তীব্র। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরই হতে চলেছে বাংলার সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র|

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *