নিজস্ব সংবাদদাতা :- চারতলার জানালা থেকে ঝাঁপ দিয়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে |শনিবার সকালে এই ঘটনার পর খোদ হাসপাতালের অন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’দিন আগে কে বা কারা ওই যুবককে হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তি করে দিয়ে গিয়েছিল। তাঁর কোনো পরিচয় এখনও জানা যায়নি। শনিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ হঠাৎই ওই যুবক ৪ তলার মেডিসিন বিভাগের জানালা দিয়ে নিচে ঝাঁপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে পুনরায় সার্জিক্যাল বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ চিকিৎসা চলার পরই তাঁর মৃত্যু হয়।মনোরঞ্জন সরকার নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হাসপাতালে তিনি বসেছিলেন। হঠাৎই ঝুপ করে শব্দ হয়। তাকিয়ে দেখেন এক যুবক পড়ে আছেন। মুহূর্তে শোরগোল পড়ে যায় হাসপাতাল চত্বরে। বছর ৪৫-এর ওই যুবককে তুলে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। মনোরঞ্জনের কথায়, ‘অত উঁচু থেকে পড়লে কি আর বাঁচানো যায়?’হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই যুবকের বাঁ চোখে ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল। মনে করা হচ্ছে, তিনি চোখের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, হাসপাতাল ভবনের চার তলার একটি জানালা থেকে নীচে পড়ে যান তিনি।খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রায়গঞ্জ থানার আইসি সুমন কল্যাণ দে সরকারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী। উপস্থিত হন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি প্রিয়ঙ্কর রায়, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার সহ স্বাস্থ্য দফতরের অন্যান্য কর্তারা।
ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের এমএসভিপি প্রিয়ঙ্কর রায়। তিনি বলেন, ‘পুলিশকে জানিয়েছি। যতদূর শুনেছি চার তলা থেকে পড়ে গিয়েছেন। নিরাপত্তার গাফিলতি কি না দেখতে হবে।’পুলিশ ইতিমধ্যেই রায়গঞ্জ থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহটি বর্তমানে মেডিকেল কলেজের শল্য বিভাগেই রাখা রয়েছে। তবে একজন চিকিৎসাধীন রোগী কীভাবে সবার নজর এড়িয়ে চারতলার জানালা পর্যন্ত পৌঁছাল এবং নিচে ঝাঁপ দিল, তা নিয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষীদের ভূমিকা কড়া আতসকাঁচের নিচে। কার গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal