Breaking News

জুলাই থেকেই বাংলায় ‘আয়ুষ্মান ভারত’! স্বাস্থ্যসাথীর উপভোক্তারাও পাবেন সুবিধা, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

দেবরীনা মণ্ডল সাহা, কলকাতা :-সরকার বদলের পরই রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রকে ঢেলে সাজানোর কাজে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার স্বাস্থ্য বৈঠকের পর বড়সড় বেশ কয়েকটি ঘোষণা করলেন তিনি। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কবে থেকে শুরু হবে, কারা এর সুবিধা পাবেন, সেই ঘোষণা। এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে যাঁরা বিগত সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা পান, তাঁরা এখন থেকে সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন |রাজ্যের যে ৬ কোটি মানুষ মমতার সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, তাঁদের এ বার কেন্দ্রের আয়ুষ্মান প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন করেও আবেদন করা যাবে স্বাস্থ্যবিমার জন্য। ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এবং প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তকে পাশে বসিয়ে প্রথমেই তিনি তোপ দাগেন পূর্বতন রাজ্য সরকারকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আগের সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা তো করেইনি, শুধু বিরোধিতাই করেছে। যার ফলে কোটি কোটি মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন।’’ তিনি জানান, যে সুবিধা অন্যান্য রাজ্য পেয়েছে, সেগুলো পশ্চিমবঙ্গ পায়নি। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর নতুন সরকার ভারত সরকারের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রকল্পের রিভিউ করেছে। সেই মোতাবেক বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উন্নতিসাধনের জন্য নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করেছে তাঁর সরকার। তাঁর কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের হেল্থ‌‌ সেক্টরে আমরা একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছি আমরা।’’তারপরেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘‘আয়ুষ্মান ভারতে এনরোলমেন্টের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, জুলাইয়ের মধ্যে আমরা আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড দিতে পারব। গোটা ভারতে এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন (উপভোক্তারা)। আমরা আশা করছি, স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে যুক্ত এমন ৬ কোটিরও বেশি কার্ড হোল্ডারকে এখনই আয়ুষ্মান ভারতে নিয়ে যেতে পারব। পরে আরও মানুষ যুক্ত হতে পারবেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন করে আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চান যাঁরা এবং স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে এত দিন যুক্ত হননি, এমন নাগরিকও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের এগ্রিমেন্ট দিল্লিতে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারত সরকারের মন্ত্রী, আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটা করব। প্রায় ১ কোটি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা যাঁরা অন্য রাজ্যে আছেন, তাঁরাও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এই সুবিধা পাবেন।’’পশ্চিমবঙ্গে চারশোর বেশি প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র তৈরির ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এতে সাধারণ মানুষের অনেকটা আর্থিক সাশ্রয় হবে। দুরারোগ্য অসুখের ওষুধে ৮০ শতাংশ ছাড় থাকবে। এমন ৪৬৯টি কেন্দ্র তৈরি হলে ১০ গুণ সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০০০ টাকার ওষুধ ২০০ টাকায় পাওয়া যাবে। তা ছাড়া প্রত্যেক জেলায় মেডিক্যাল কলেজ যাতে থাকে, সেই পদক্ষেপও করা হবে। এখন চারটি প্রশাসনিক জেলায় মেডিক্যাল কলেজ নেই। শুভেন্দু বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। এর সুফল কিছু দিনের মধ্যেই পেতে শুরু করবেন। চারটি প্রশাসনিক জেলা— আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, আসানসোল এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজ হয়নি। সে জন্য প্রয়োজনীয় জমি ইত্যাদির প্রস্তাব পাঠানো হবে কেন্দ্রকে। উত্তরবঙ্গে এমস তৈরির জন্য পদক্ষেপ করা হবে।’’রাজ্যে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার ঠিক ভাবে ‘মনিটরিং’ করেনি। তিনি বলেন, ‘‘পাঁচ বছরের নীচে মৃত্যুহার এ রাজ্যে অনেক বেশি। কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম মালদহ জেলাগুলির রিপোর্ট উদ্বেগজনক।’’ এমন আরও কয়েকটি রিপোর্ট দেওয়ার পর রাজ্যবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ খুশির খবর দিচ্ছি। এই অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভারত সরকার ২১০৩ কোটি আমাদের জন্য বরাদ্দ করেছে। আজকের তার এক চতুর্থাংশ ভারত সরকার ট্রান্সফারও করে দিয়েছে।’’

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *