প্রসেনজিৎ ধর :-বিরোধীদের হইহট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় পাশ করানো হল ‘জিরামজি’ বিল। ধ্বনিভোটে বিলটি পাশ হওয়ার পরেই বৃহস্পতিবার সারা দিনের জন্য লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার। এই বিলে পূর্ববর্তী ১০০ দিনের প্রকল্পের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মদিবস নিশ্চিত করা হয়েছে | কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, বিকশিত ভারত ২০৪৭ এর মোদি ভাবনার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র | ধ্বনিভোটে বিলটি পাশ হওয়ার পরেই বৃহস্পতিবার সারা দিনের জন্য লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার। তার আগে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নামবদল নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজায় সরগরম ছিল লোকসভা। বৃহস্পতিবার কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে শিল্প ও বাণিজ্য সম্মেলনে নামবদল নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “মনরেগা (১০০ দিনের কাজের প্রকল্প) থেকেই গান্ধীর নাম বাদ দেওয়া হল! লজ্জা হচ্ছে, জাতির জনককে ভুলে যাচ্ছি আমরা।”বাণিজ্য সম্মেলন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের নাম বদলে মহাত্মা গান্ধীর নামে রাখছে তাঁর সরকার। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, “আপনারা গান্ধীকে সম্মান না-দিলে আমরা দেব। আমরা সম্মান দিতে জানি।”এরপরেই বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকেই কর্মশ্রী প্রকল্পের নাম গান্ধীর নামে রাখা হবে বলে জানান। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, নেতাজি থেকে শুরু করে গান্ধীজি, সমস্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আমরা সম্মান দিতে জানি।১০০ দিনের কাজের প্রকল্প নিয়ে নতুন আইন আনতে চাইছে কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যে মঙ্গলবার লোকসভায় পেশ করা হয় ‘বিকশিত ভারত- গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’। সংক্ষেপে ‘জিরামজি’। এত দিন গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ওই প্রকল্পের নাম ছিল মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপাওয়ারমেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট, ২০০৫ (সংক্ষেপে মনরেগা)। প্রস্তাবিত বিলে গান্ধীর নাম না-থাকায় প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। প্রস্তাবিত বিলে বছরে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিন কাজ দেওয়ার কথা বলা হলেও প্রকল্পের ৪০ শতাংশ ব্যয়ভার বহন করতে হবে রাজ্যগুলিকে। এই বিষয়টি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন বিরোধী সাংসদেরা।বৃহস্পতিবার সকালেই প্রকল্প থেকে গান্ধীর নাম সরানোর প্রতিবাদ করে সংসদ চত্বরে মিছিল করেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সাংসদেরা। লোকসভার অধিবেশন শুরু হলে গান্ধীর ছবি নিয়ে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান তাঁদের অনেকে। বিলের কপি ছিঁড়ে ফেলা হয়। প্রস্তাবিত বিল নিয়ে বিতর্কে যোগ দেন কংগ্রেসের প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা, ডিএমকে-র টিআর বালু, এসপি-র ধর্মেন্দ্র যাদব। বিলের বিরোধিতা করে তারা সেটি নিয়ে সবিস্তার আলোচনার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানান। শেষমেশ অবশ্য বিরোধীদের স্লোগান-বিক্ষোভের মধ্যেই ধ্বনিভোটে বিলটি পাশ করানো হয়।
Hindustan TV Bangla Bengali News Portal